সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের এগিয়ে আসতে হবে: হুইপ জি কে গউছ

হবিগঞ্জে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে হবিগঞ্জ-৩ (সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকার সরকারি ভাতাপ্রাপ্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অংশগ্রহণে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জি কে গউছ।
সভায় হুইপ জি কে গউছ বলেন, একটি সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অপরিসীম। ইসলাম শান্তি ও সত্যের ধর্ম। সমাজ থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক দূর করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে এসব অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ থাকবে।
তিনি বলেন, কোনো মসজিদকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। দুর্নীতির ভয়াবহ পরিণতি ও দুর্নীতিবাজদের জন্য আল্লাহ কী কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন, তা মসজিদের খুতবা ও আলোচনায় তুলে ধরতে হবে। ইসলাম ধর্মে মাদকের কোনো স্থান নেই, সন্ত্রাসের কোনো জায়গা নেই এবং আত্মহত্যারও কোনো অনুমোদন নেই। এসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়মিত আলোচনা করতে হবে।
হুইপ জি কে গউছ বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা হবিগঞ্জের জন্য কিছু ভালো কাজ করতে চাই। গত ৬ মাসে আমার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মসজিদে লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো মসজিদে নামফলক লাগাতে দেওয়া হয়নি। নামফলক দিয়ে যে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা যায় না, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা তার প্রমাণ। আমি আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, এই দেশ আমাদের সবার। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা কোনো দলীয় পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করিনি। আমরা মনে করেছি, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাছে আমাদের যাওয়া প্রয়োজন এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে সমাজের জন্য ভালো কিছু করা দরকার।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হুইপ জি কে গউছ বলেন, বিএনপি করতে হলে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। সমাজের ক্ষতি হয়- এমন কোনো কাজ করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা কথা কম বলব, কাজ বেশি করব। তাই আসুন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুজ্জামান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক শেখ মুহাম্মদ খালেদুল করিম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের, লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এবং হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড কর্মকর্তা দেলোয়ার হুসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন মাওলানা আশরাফুল ওয়াদুদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা জয়নাল আবেদীন ফারুকী। পরে নাতে রাসূল পরিবেশন করেন জিল্লুর রহমান আশেকী।
(ঢাকা টাইমস/১২সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











