ভারত থেকে ফেরার সময় ‘মল-মূত্র’ নিয়ে যাবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন!

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৩
অ- অ+

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে গেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্মেলন শেষে রোববার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তবে সফর শেষে ফেরার সময় পুতিনের সঙ্গে তার মল-মূত্রও রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এক্সপ্রেস ইউএস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের স্বাস্থ্য ও শারীরিক অবস্থার কোনো তথ্য বিদেশি শক্তির হাতে যাতে না যায়, সে কারণেই বিদেশ সফরে তার মানববর্জ্য সংগ্রহ করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিনের সফরসঙ্গী নিরাপত্তাকর্মীরা বিশেষ একটি স্যুটকেসে তার মল-মূত্রসহ মানববর্জ্য সংগ্রহ করেন। সফর শেষে সেগুলো রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পুতিনের নিরাপত্তাব্যবস্থার এমন কড়াকড়ির পেছনে মূল লক্ষ্য হলো তার স্বাস্থ্য ও গতিবিধি সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখা। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পুতিনের আশপাশে কাজ করা কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই। তাদের মাস্ক পরতে হয়। এমনকি পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে হাতঘড়ি খুলে রাখার মতো ব্যবস্থাও রয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে রাশিয়ান প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস (এসবিপি), যা ফেডারেল প্রোটেক্টিভ সার্ভিসের (এফএসও) অধীনে কাজ করে। সংস্থাটির শিকড় সাবেক সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির সঙ্গে যুক্ত। পুতিন নিজেও একসময় কেজিবির কর্মকর্তা ছিলেন।

বিদেশ সফরে পুতিনের নিরাপত্তা সাধারণত বহুস্তরীয় ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা নিরাপত্তাকর্মী, এলাকায় নিয়োজিত সদস্য এবং দূরের উঁচু ভবনে অবস্থান নেওয়া স্নাইপারদেরও এই নিরাপত্তাবলয়ের অংশ হিসেবে রাখা হয় বলে ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত সফরকে কেন্দ্র করেও দিল্লিতে পুতিনের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রুশ নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) ও দিল্লি পুলিশের সদস্যরা নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছেন। পুতিনের যাতায়াতের পথ ও আশপাশের এলাকায় কড়া নজরদারির পাশাপাশি ড্রোন, জ্যামার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ও মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

পুতিনের স্থলযাত্রার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে তৈরি ‘অরাস সেনাট’ লিমুজিন ব্যবহৃত হয়। বুলেট ও বোমা প্রতিরোধী এই গাড়িকে অনেক সময় ‘চলন্ত বাঙ্কার’ বলা হয়। এতে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জরুরি অক্সিজেন ও রান-ফ্ল্যাট টায়ারের মতো বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা যায়।

বিমানযাত্রাতেও রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। পুতিন সাধারণত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানে ভ্রমণ করেন বলে ডসিয়ার সেন্টারের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে একই রুটে একাধিক সহায়ক বিমানও রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

পুতিনের খাবার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও নেওয়া হয় বিশেষ সতর্কতা। বিদেশ সফরে তার খাবার স্থানীয় হোটেলের রান্নাঘরে তৈরি না করে রুশ রাঁধুনিরাই প্রস্তুত করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খাবারের উপাদান পরীক্ষা করার পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীরা তা আগে চেখে দেখেন বলেও দাবি রয়েছে।

তবে পুতিনের মল-মূত্র সংগ্রহ করে রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি মূলত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দাবির ওপর ভিত্তি করে আলোচিত হয়ে আসছে। এর উদ্দেশ্য হিসেবে পুতিনের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো তথ্য বিদেশি গোয়েন্দাদের হাতে না যাওয়ার বিষয়টিকেই সামনে আনা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১২ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
‎জামায়াতের কারণে বিক্ষোভ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন
দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৩ মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, রাসিকের বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত
লালবাগে ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে আইনজীবীর মরদেহ উদ্ধার