পদ্মায় পানি বেড়ে ৩ জেলায় বন্যা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৮
অ- অ+

পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে নদীভাঙনও।

আকস্মিক বন্যায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও গোখাদ্যের সংকটে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারত ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় উজান থেকে ঢল নেমেছে। এর সঙ্গে বৃষ্টির পানি যোগ হয়ে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণেই পদ্মার পানি বাড়ছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের ৮০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় কোথাও কোমরসমান, কোথাও হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় নৌকাই এখন মানুষের চলাচলের প্রধান ভরসা।

বন্যার কারণে দুই ইউনিয়নের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। শুক্রবার বিকেল ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ০২ মিটারে। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের পুরো এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চর বয়ারমারী ও কানাপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙনও শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া পবার চরখিদিরপুর, মধ্যচর, চরখানপুর ও মাঝারদিয়াড় এবং বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় তিন হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় চাল, শুকনো খাবার ও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। চরাঞ্চলে তিনটি মেডিকেল টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

পদ্মার পানি বেড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুই উপজেলার আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৬ হেক্টর ফসলি জমি। বন্যার কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবাতেও ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

পদ্মার পানি আরও বাড়লে তিন জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগও কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

(ঢাকাটাইমস/১২ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
গুলশানে নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের সপ্তাহে এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশের বাজারে বাড়লো স্বর্ণের দাম
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী