সাদা বস্তায় নিরাপত্তাকর্মী, খণ্ডিত ভিডিওতে অপহরণের দাবি; পূর্ণাঙ্গ ফুটেজে ভিন্ন চিত্র

রাজধানীর পল্লবীতে সাদা বস্তায় করে এক নিরাপত্তাকর্মীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজের খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ওই ভিডিওতে বিষয়টিকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি ফুটেজে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বস্তা থেকে বেরিয়ে ওই ব্যক্তিকে তাকে বস্তায় করে নিয়ে আসা ব্যক্তির সঙ্গে বসে থাকতে এবং পরবর্তীতে রিকশায় করে চলে যেতে দেখা যায়।
সম্প্রতি পল্লবীতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার এসব তথ্য জানান।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৫০)। তিনি পল্লবীর এভিনিউ-২, ব্লক-এ এলাকায় দ্য স্যালভেশন আর্মির যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ক্লিনিকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে তিনি সেখানে নাইট গার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নজরুল রাতের দায়িত্বে যোগ দেন। পরদিন সকাল ৬টার দিকে বদলি গার্ড দানিয়েল সরকার এসে তাকে না পেয়ে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক বোস এলভিন অথিকে জানান। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় করে নজরুলকে প্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে এনে রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে নজরুল বস্তা থেকে বেরিয়ে আসেন।
এরপর কিছুক্ষণ তিনি প্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে বসে থাকেন। পরে তাকে বস্তায় করে নিয়ে আসা ওই ব্যক্তির সঙ্গে রিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান নজরুল।
পুলিশ বলছে, পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নজরুলকে জোর করে বস্তায় ঢোকানো বা সেখানে নিয়ে যাওয়ার কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি খণ্ডিত হওয়ায় পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট সেখানে দেখা যাচ্ছে না।
তবে কেন নজরুলকে সাদা বস্তায় করে প্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে আনা হয়েছিল, তাকে নিয়ে আসা ব্যক্তিটি কে এবং পরে তাঁর সঙ্গে কেন রিকশায় করে চলে গেলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার বলেন, ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। পূর্ণাঙ্গ সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











