পাঞ্জাবের জন্য ভারতের চেয়ে অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠী বেশি বিপজ্জনক: মরিয়ম নওয়াজ

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নিরাপত্তার জন্য প্রতিবেশী দেশের চেয়ে নিজ দেশের অন্য প্রদেশগুলো থেকেই বেশি হুমকি আসছে বলে মন্তব্য করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ।
তিনি বলেছেন, পাঞ্জাব, সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের ত্রি-সীমান্ত এলাকা এবং অন্যান্য প্রদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকেই মূলত নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হচ্ছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় যৌথ তল্লাশি চৌকিগুলো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) লাহোরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মরিয়ম নওয়াজ। তার বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে জিও টিভি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মরিয়ম বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূলে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। এ জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের উপায় ও সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে।
পাঞ্জাবের দক্ষিণে সিন্ধু প্রদেশের সীমান্তবর্তী ‘কাচ্চা’ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী ও ডাকাতদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। সিন্ধু নদের চর ও জঙ্গলঘেরা দুর্গম এই অঞ্চলে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। তারা অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও চোরাচালানের মতো অপরাধে জড়িত বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে পাঞ্জাবের উত্তর-পশ্চিমে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।
পাঞ্জাবের পশ্চিমে বেলুচিস্তান। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং চোরাচালান নিয়েও প্রাদেশিক সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।
এ ছাড়া এক প্রদেশে অপরাধ করে অন্য প্রদেশে পালিয়ে যাওয়াও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের জন্য বড় সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাদেশিক পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তাদের আটক করা কঠিন হয় বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।
মরিয়ম নওয়াজ বলেন, অতীতে অনেক এলাকায় জঙ্গিদের কাছে পুলিশের চেয়েও উন্নত অস্ত্র ও নাইট-ভিশন সরঞ্জাম ছিল। ফলে তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানি ঘটেছে।
তবে বর্তমানে এসব চৌকিতে বুলেটপ্রুফ সুরক্ষা, থার্মাল ইমেজিং ও নাইট-ভিশন ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাঞ্জাবে শান্তি বজায় রাখতে ‘বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মরিয়ম বলেন, যেখানে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দশকের পর দশক ধরে অপরাধের আখড়া হিসেবে পরিচিত কাচ্চা এলাকাগুলো পুরোপুরি পরিষ্কার করে ‘অপরাধমুক্ত অঞ্চল’ করার দাবিও করেন তিনি। তার ভাষ্য, পাঞ্জাবে অপরাধের মাত্রা প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। ‘সুথরা পাঞ্জাব’ কর্মসূচির আওতায় দুর্নীতি শনাক্ত হওয়ার পর কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাগরিকদের দুর্নীতির তথ্য দেওয়ার জন্য হেল্পলাইন চালু এবং দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের নজরদারিতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানান মরিয়ম।
তিনি বলেন, ১০০ রুপির দুর্নীতিও বরদাশত করা হবে না। যেখানেই দুর্নীতি হবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ধর্মকে ব্যবহার করে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা মোকাবিলা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মহররম ও ঈদে মিলাদুন্নবীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে মরিয়ম বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না।
উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসনকে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাস্তাঘাট ও বড় প্রকল্প নির্মাণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।
(ঢাকাটাইমস/৬ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







