শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ঢাবি শিক্ষিকা মোনামির স্কোর ১.৫৯

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫
অ- অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষিকা মোনামির পাঠদান, পেশাদারিত্ব, সময়ানুবর্তিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের দেওয়া বেনামি রিভিউতে কেউ তাকে বন্ধুসুলভ ও ভালো শিক্ষক হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ পাঠদান ও পেশাদারিত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া মূল্যায়নে পাঁচের মধ্যে মোনামির সামগ্রিক স্কোর ১ দশমিক ৫৯।

রেটিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘শিক্ষক বিষয়বস্তু স্পষ্ট ও কার্যকরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন’—এ প্রশ্নে গড় স্কোর ১ দশমিক ৩৬। ‘ক্লাসে সমালোচনামূলক ও স্বাধীন চিন্তাকে উৎসাহিত করা হয়েছে’—এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৬০ এবং ‘উদাহরণ ও ব্যাখ্যা পাঠ সহজে বুঝতে সহায়তা করেছে’—এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৫২।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সহায়তার ক্ষেত্রেও স্কোর তুলনামূলক কম। প্রশ্ন করা ও উন্মুক্ত আলোচনায় উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্কোর ২ দশমিক ০৪, শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছানো ও তাদের প্রতি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৭৬ এবং সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্মান ও ন্যায্য আচরণের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৬৮।

মূল্যায়ন ও ফিডব্যাকের ক্ষেত্রেও সন্তোষজনক স্কোর পাওয়া যায়নি। ‘গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড স্পষ্ট, ন্যায্য ও স্বচ্ছ’—এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৬৮। অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার ফিডব্যাক সময়মতো এবং গঠনমূলক ছিল কি না—এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৫৬।

পেশাদারিত্ব ও সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রেও রেটিং কম। ‘শিক্ষক সময়ানুবর্তী এবং নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন’—এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ২০। ‘শিক্ষক পেশাগত সততা ও আচরণ বজায় রেখেছেন’—এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ২৮।

সামগ্রিক সন্তুষ্টির ক্ষেত্রেও স্কোর কমেছে। ‘আমি এই শিক্ষককে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে সুপারিশ করব’—এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৪৪ এবং ‘সামগ্রিকভাবে আমি এই কোর্সের পাঠদানে সন্তুষ্ট’—এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৫২।

তবে লিখিত মন্তব্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্ন মতও দেখা গেছে। একজন শিক্ষার্থী মোনামিকে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে একজন ভালো ও বন্ধুসুলভ শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, শিক্ষিকার কাছে সহজে পৌঁছানো যায় এবং তার আবেগপ্রবণতা থাকলেও তিনি পাঠদানে ভালো কাজ করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন শিক্ষকের উপস্থিতি দিয়ে তার পাঠদানের সক্ষমতা বিচার না করার আহ্বানও জানান ওই শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার পাঠদান, সময় ব্যবস্থাপনা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে সমালোচনা করেছেন। কারও কারও অভিযোগ, তিনি সময়মতো ক্লাস নেননি বা পরীক্ষার তারিখ নিয়ে ভুল করেছেন। আবার একজন শিক্ষার্থী পাঠদানের সক্ষমতা ও পক্ষপাতিত্ব নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন।

আরেকটি লিখিত মন্তব্যে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা ও লেকচার উপস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, শিক্ষিকা মূলত নিজের তৈরি লেকচার পড়ান এবং সময়ানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের এসব লিখিত অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাই ওই রিভিউগুলোতে পাওয়া যায়নি। একইভাবে রিভিউগুলোতে যেসব ইতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে, সেগুলোরও পৃথকভাবে যাচাই করা হয়নি।

ফলে শিক্ষার্থীদের বেনামি মূল্যায়নে মোনামির বিষয়ে একদিকে বন্ধুসুলভ ও ভালো শিক্ষক হিসেবে প্রশংসা যেমন রয়েছে, অন্যদিকে পাঠদান, সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারিত্ব, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও পক্ষপাতিত্ব নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৩ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আদানির বিকল ইউনিট সচল, আজই বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ
মৌমাছি হুল ফোটালে জ্বালা-ফোলা কমানোর ঘরোয়া উপায়
চাচার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস ক্যাডার, আসামির ডিএনএ পরীক্ষা নিয়ে বিপাকে দুদক
শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে কৃষিবিদ সি প্যালেস-এর মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত