প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে ১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ৩০ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত: মাহদী আমিন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্ক সফরে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান।
মাহদী আমিন বলেন, সফরজুড়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, চারটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, ‘পরম আন্তরিকতার সঙ্গে প্রতিটি দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গ্রহণ করেছেন।’
সফরের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসা এবং বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহদী আমিন জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায়। জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
এ ছাড়া গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য দেন। প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন।
মাহদী আমিন বলেন, চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতেই বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
(ঢাকাটাইমস/২৬ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










