জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মতিউর: প্রসিকিউটর

১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তার মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় মোজাফফর হোসেন এসব তথ্য দেন। এর আগে গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রসিকিউটর জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর বলেছেন, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তাকে জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি কয়েকজন সৈনিককে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে মরদেহ পাহাড়ের দিকে নিয়ে যান।
তবে পরে তিনি ওই নির্দেশ পালন করেননি বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের মরদেহ একটি কবরে দাফন করা হয়। তবে ওই ইমামকে মরদেহগুলোর পরিচয় জানানো হয়নি।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান জিয়াউর রহমানকে গুলি করেছিলেন বলে দাবি করেছেন।
প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজাফফরের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট রয়েছে। ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালের দিকে দেশে ফিরে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন।
তানভীর হাসান জানান, সিরাজগঞ্জের তৎকালীন সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের মাধ্যমে ওই সাক্ষাতের ব্যবস্থা হয়। সেখানে মোজাফফর শেখ হাসিনাকে সালাম দিয়ে পরবর্তী করণীয় জানতে চাইলে তাকে সেনাবাহিনীতে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।
পরে সেনা সদরে তার যোগদানের বিষয়ে চিঠি গেলেও নানা জটিলতায় প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হয়নি। এরপর তিনি বাংলাদেশে সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হন বলে প্রসিকিউটর জানান।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা কর্মকর্তার অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। দীর্ঘ সময় পর এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যের পর হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/২৯ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













