আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা: পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১০, গুলিতে আহত ২

রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে দুজন আহত হয়েছেন। এ সময় ১০জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি, সামুরাই ও কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন– রাজিব হাওলাদার, সাগর ওরফে ছোট বিগার, মো. শাকিব, মো. রাশেদ, মো. রাসেল, মো. আতিকুল, আবুল কালাম আজাদ, মো. রাসেল পিয়াদা, লিয়ন ও হাবিবুল্লা ওরফে রাসেল।
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, আদাবর থানায় হওয়া বাড়ি দখল চেষ্টা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছিল। রাত সোয়া দুইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার কয়েকজন আসামি নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ে অবস্থান করছেন। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জনকে দেখতে পায় পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তারা চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কনস্টেবল মোশরেকুল ইসলামের হাতে থাকা শটগান দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে দুজন আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজিব ও সাগরের পায়ে গুলি লাগে। তাদের চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার সাগরের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা রয়েছে। রাজিব মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি। শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আদাবর থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের বাড়িটিতে হামলার ঘটনা ঘটে গত শনিবার সকালে। বাড়ির মালিক ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান খানের স্বজনদের অভিযোগ, রামদা, চাপাতি ও পিস্তলসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বাড়িটিতে হামলা চালায়। তাঁরা বাড়িটি দখলের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় আদাবর থানায় মামলা করেন বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান। মামলায় খুরশিদ আলম খান, হাবিবুল্লাহ ওরফে রাসেল, কালাম, কামরান হোসেন, মিজানুর রহমান, সজীব হোসেন, হাসিবুল হাসান ওরফে ইমন ও তানভীরসহ ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












