শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তপ্ত ফ্রান্স, সহিংসতার জেরে হাইস্কুলের ক্লাস বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২
অ- অ+

ফ্রান্সে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। কোথাও কোথাও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং রাস্তায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে দেশজুড়ে সব হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। খবর আল জাজিরা’র।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পূরণ, দুপুরের খাবারের বিরতি বাড়ানো এবং দৈনিক ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বিক্ষোভে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে আয়োজকদের দাবি, এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। হাইস্কুল শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার হাইস্কুলে অবরোধ করা হয়েছে অথবা ক্লাস বন্ধ ছিল।

প্যারিসসহ মার্সেই, নঁত, লিওঁ, স্ট্রাসবুর্গ ও রেনে শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি স্থানে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ রাস্তায় আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কৃষক ও জ্বালানি খাতের কর্মীদের বিভিন্ন ইউনিয়নও বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে। অভিভাবকেরাও সন্তানদের নিরাপত্তার উদ্বেগ থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের’ মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিতেই ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে অক্টোবরের শেষ নাগাদ পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সরকার পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। তবে দেশটির বাজেট সংকটের মধ্যে এসব দাবিতে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে, যাদের মধ্যে এক হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে অন্তত ২১৫ জন কিশোর এবং ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

এর আগে সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় শহর লঁসে শিক্ষার্থী ও পুলিশের সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয়। ফরাসি সংবাদপত্র লা ভোয়া দ্য নোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের একটি গ্রেনেড তুলে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হলে ওই কিশোরের একটি হাত ও হাতের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এদিকে ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই ফ্রান্সের পরিস্থিতির জন্য ‘নিয়ন্ত্রণহীন গণঅভিবাসন’ ও মুসলিমদের দায়ী করেন।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডানপন্থি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এ ধরনের বক্তব্য ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবকে আরও উসকে দিতে পারে।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ক্রমেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে এখন একদিকে শিক্ষা সংস্কারের দাবিগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/৭ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ: বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতি হওয়ার সম্ভাবনা ও করণীয়
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টির আভাস নেই, বাড়বে গরম
মেসির বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনার দাপুটে জয়, বেনিনকে হারাল ৩-০ গোলে
চতুর্থ শ্রেণি থেকে বইয়ে খেলাধুলা নামে নতুন অধ্যায়: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী