শিরোনাম :

বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান, খুলছে ২ লাখ কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬
অ- অ+

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বিনিয়োগের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জাপানের রাজধানী টোকিওতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে প্রকাশিত ১৪ দফা যৌথ বিবৃতিতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি সফরের (২৬-২৯ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে জাপানের সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন জানান, দুই নেতার বৈঠকে জ্বালানি, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

পাঁচ বছরে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনাকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন। জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতকে এ বিনিয়োগের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

টোকিওতে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশে করব্যবস্থা, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, রেমিট্যান্স ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি

বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণকে মসৃণ ও টেকসই করতে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইপিএর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদারের সম্ভাবনা তৈরি হবে। চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার বিষয়েও দুই নেতা একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। এ বিষয়ে জাপান ইতিবাচক আলোচনা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তিনটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি ও বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। জাপান সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে তিনি জানান।

বিগ-বি উদ্যোগে নতুন গতি, মাতারবাড়ী হবে অর্থনৈতিক কেন্দ্র

বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ ‘বিগ-বি’কে আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় উদ্যোগটির নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’।

এ উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে জ্বালানি, লজিস্টিকস ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ বন্দরকে ঘিরে শিল্পকারখানা, জ্বালানি অবকাঠামো ও পরিবহনসেবা গড়ে উঠলে নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বৈঠকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি মাতারবাড়ী বন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশ একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এ সহযোগিতাকে আরও সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যাশা করছে দুই দেশ।

জ্বালানি নিরাপত্তায় জাপানের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

জ্বালানি খাতে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে অবস্থিত জাপানের জেরা (জেডইআরএ) স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।

জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় জাপানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনার সঙ্গে এ পরিদর্শনও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতেও সম্পর্ক জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকর হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

যৌথ বিবৃতিতে সমুদ্র ও বন্দর নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায় একটি বড় টহল জাহাজ এবং নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচি (ওএসএ)-এর আওতায় পাঁচটি টহল বোট দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান দুই নেতা।

বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে দেশটির অবদানের প্রশংসা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে সমুদ্রসীমা ও বন্দরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কাঠামো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিস্তারিত পদক্ষেপ পৃথকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

আইসিটি, ডিজিটাল রূপান্তর ও দক্ষ জনশক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন। ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষ আইসিটি পেশাজীবী তৈরি এবং নিরাপদ ডিজিটাল সংযোগ প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভাষাগত দক্ষতা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের টিকে থাকা এবং ভাষাগত সমস্যা কমাতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও জাপানি ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ভূমিকার প্রশংসা করেন দুই দেশের নেতারা। পাশাপাশি জাপানের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (এমইএক্সটি) বৃত্তিসহ বাংলাদেশে জাপানি ভাষা শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন তাঁরা।

স্থানীয় সরকার ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জাপান। এ লক্ষ্যে ‘উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে ইয়েন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।

এ ছাড়া বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। নতুন চুক্তি ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনিক সক্ষমতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনসেবার মান বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথম দিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুবার জাপান সফর এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে স্বাগত জানান। জাপানের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।

দুই নেতা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতিও তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ অবস্থান

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সভাপতিত্বে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

দুই নেতা একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এ অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহব্যবস্থার পরিবর্তন ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর

মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য দেশটির প্রশংসা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসইভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান বলে একমত হন দুই নেতা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের বিশেষ দূতের ভূমিকা এবং দেশটির সহযোগিতার আশ্বাস নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।

গাজা, হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী। ফিলিস্তিনের গাজা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া এবং দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সংকটের ন্যায্য ও স্থায়ী সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দ্রুত ও পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং লোহিত সাগর ও বাব এল-মানদেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান দুই নেতা।

বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও কার্যকর করতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এই শীর্ষ বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত যৌথ কমিশনের মাধ্যমে দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত চিহ্নিত করা, বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এতে বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো বাস্তব প্রকল্পে রূপান্তর এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

জাপানের লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন

জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি জাপানের আধুনিক সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কেও ধারণা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার বিকেলে চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে অবস্থিত নিতসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন জানান, প্রধানমন্ত্রী সেখানে আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

জাপানের আধুনিক লজিস্টিকস অবকাঠামোর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বন্দর, পণ্য পরিবহন, গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গে এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠককে ফলপ্রসূ বলল বাংলাদেশ

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে।

তিনি জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করা এবং জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আগ্রহকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিরক্ষা চুক্তি ও অন্যান্য সমঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও নীতিগত আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও সমঝোতার বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে।

বাংলাদেশের জন্য জাপান দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা, ইপিএ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘোষিত বিনিয়োগের প্রকৃত বাস্তবায়ন, প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়ন এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির ওপর।

(ঢাকাটাইমস/২৮ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বৈঠক
অনলাইন গেমের নেশা মানসিক অসুখ, মুক্তির উপায়
নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা ‘প্রায় অসম্ভব’, নির্বাচনে ধাক্কা ডানপন্থি জোটের
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস