৮ মাসও হয়নি, ক্ষমতার জন্য ‘শকুনের দল’ অস্থির হয়ে গেছে: মো. তারেক রহমান

আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান বলেছেন, সরকার গঠনের আট মাসও পার হয়নি, এরই মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ‘শকুনের দল’ অস্থির হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাকে হেয় করতে করতে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে দল দুটি যে তার সামান্য রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও সহ্য করতে পারছে না।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।
ঢাকা টাইমস পাঠকদের জন্য মো. তারেক রহমানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছেন যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটা সহ্য করতে পারছে না। তারা হাঁফাচ্ছে জিহ্বাটা বের করে।
আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সাথে। ওরা জ্বলতে থাকুক।
২০১৮ বা ২০২৪ এর সহযোদ্ধারা যারা রাজনীতিতে সময় দিচ্ছে কয়েকজন বাদে বেশিরভাগকেই শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিকট হতে চেয়ে চিনতে চলতে হয়। আমিও এ ধরনের সহযোগিতা নিয়ে চলেছি কিছু দিন। কি করব, তখন না পারছিলাম কর্মে ফিরতে না পারছিলাম আন্দোলন ছেড়ে দিতে। প্রবাসী ভাইদের দেয়া অর্থে আমি খেয়েছি, গাড়ি ভাড়া দিয়েছি, বাসা ভাড়াও দিয়েছি।
কিন্তু আমি এই চক্র হতে বের হয়ে কিছু কাজ করে খেতে চেয়েছি। বাবা মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারনে আমাকে অনেক ক্ষুধা দারিদ্রের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাধ্য হয়েই ফল ব্যাবসা করেছি, মধু ব্যাবসা করেছি। আমি জান প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছি কিছু একটা কর্ম হতে আমার খাবার, বাসা ভাড়া যোগাড় করতে। এটা যদি অযোগ্যতার কারন হয়, তাহলে আর কি করার আছে।
আমার অতটা পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ হয় নাই। কিন্তু যখন সুযোগ পেয়েছি আল্লার হাতে জান সঁপে দিয়ে ইফোর্ট দিয়েছি মুক্তির লড়াইয়ে।
২০১৮ এর ধারালো ফলার মত লিফলেট, মোদী বিরোধী আন্দোলনের লিফলেট, ভারতীয় পণ্য বর্জনের অতীব জনপ্রিয় লিফলেট আমার হাতেই করা।
#প্রথম আটক (রমনা থানা) ১৪ মার্চ ২০১৮
#দ্বিতীয়বার গুম হই (ডিজিএফ আই) ১৪ জুলাই ২০১৮
#তৃতীয় আটক হই ডিবি কর্তৃক, ১০ ডিসেম্বর ২০২০
#চতুর্থ আটক হই ডিজিএফ আই কর্তৃক ২২ জুলাই
#১০_দিনের_রিমান্ড ৩ আগস্ট ২০২৪
এগুলোই কিছুটা মনে পরে, আমি এর চেয়ে বেশি কিছু করার সুযোগ পাই নাই।
যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সাথে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নাই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ। জুলাই উত্তর আরা বয়ান দিল, মুক্তিযুদ্ধের কথা আর বলা যাবে না, আমি বললাম এটাই সবচেয়ে বড় সার্বভৌমত্বের লড়াই ছিল।
১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি যে কোন মূল্যে ক্ষমতা চায়, সব বিদেশী শক্তিগুলোর সাথে সমঝোতা শেষে এরা গেছে ভারতের কাছে। ২৮ আগস্ট ২০২৪ মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ভারতের সহযোগিতা কামনা করে প্রেস ব্রিফিং করে। ভারত সাড়াও দিছে এদের। এর পর ভারতীয় মিডিয়ায় ফাঁস হল, জামাত আমীর গোপনে ভারতের র এর সাথে মিটিং করছে। ধরা খেয়ে মুখ পুরে শিকার করল জামাত আমীর। এবার ভারতের র এর নতুন করে বসছে গোলাম পরওয়ার। ধরা খেয়ে আমতা আমতা করছে। ৮ মাস হয়নি সরকারের, শকুনের দল অস্থির হয়ে গেছে ক্ষমতার জন্য।
বিএনপির মাঝে কারো পদায়নে যদি জামাত খুশি হয়, আল্লার রস্তে তার বিষয়ে যেন খোঁজ খবর নেয় বার বার।
আর আমি এদের হয়রানিতে একদম বিচলিত নয়। আজ একটা দাবি জানাই, জুলাই এর মামলায় কোন বীর মুক্তিযোদ্ধা যদি জেলে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের সম্মানে তাকে যেন জামিন দেয় আদালত। পরবর্তীতে জামিনে থাকা কালে দোষী প্রমাণিত হলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করবে।
এটাই জুলাই এর সাথে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর একমাত্র উপায়।
সবশেষে বাংলাদেশ পন্থী দল, যাদের বিদেশে কোন শাখা নাই, জাতীয়তাবাদী দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পাশে থাকার জন্য। আর ভালোবাসা জানাই আমার প্রধানমন্ত্রীকে আমাকে তার সাথে রাখার জন্য।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













