আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে আবুল খায়ের লিটুর ঘনিষ্ঠতা

পতিত সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে আবুল খায়ের লিটুর ঘনিষ্ঠতা এবং আইএফআইসি ব্যাংককে ঘিরে তাঁর ভূমিকা প্রায় সকলেই জানেন। আওয়ামী ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ পেরিয়ে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে আবুল খায়ের লিটুর ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক পাড়ায় মুখরোচক আলোচনা চলছে। জানা গেছে বিএনপি সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতি-সংক্রান্ত কমিটিতে তাঁকে সদস্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আইএফআইসি ব্যাংকে আবুল খায়ের লিটু সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। তবে এই বিপুল অঙ্কের ঋণের দায় নিষ্পত্তির বদলে সুদ মওকুফের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে প্রভাবিত করে আবুল খায়ের লিটু ওই সুদ মওকুফের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগটি যদি সত্য হয়, তা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা, ঋণখেলাপিদের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির নীতিগত অবস্থান এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন আরো বিতর্কিত হবে (ইতোমধ্যেই নানা কারণে যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে)।
এছাড়াও যে ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ বিদ্যমান, তাঁর ঋণ পুনর্গঠন বা সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে? সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যখন কঠোর অবস্থান নেয়, তখন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কেন শিথিলতার পন্থা বেছে নেওয়া হয়, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে, ঋণসুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা যেন বিবেচ্য না হয়, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সংযুক্ত ছবিটি দেখুন, বাংলাদেশের রিটেইল ব্যবসা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও আবুল খায়ের লিটুর বেঙ্গল ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগে শেরাটন হোটেলে আয়োজন করা হয়েছে সৃজনশীল সংস্কৃতিবিষয়ক অনুষ্ঠান।
সেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সাংস্কৃতিক উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতা অবশ্যই ইতিবাচক; দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু যখন এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে এমন একজন ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকে, যাকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও সুদ মওকুফের চেষ্টা চলমান, তখন স্বাভাবিকভাবেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন সামনে আসে।
লেখক: অনুসন্ধানী সাংবাদিক
(ঢাকাটাইমস/২৫ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













