২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা উঠছে

ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। এরপর মেঘনা নদীতে আবারও মাছ ধরতে নামবেন লক্ষ্মীপুরের জেলেরা। এ জন্য জাল ও নৌকা মেরামতসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
জেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, এবার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছে তারা।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৫৪ হাজার। তাদের বড় একটি অংশ মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতও নিষিদ্ধ ছিল।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, নিষেধাজ্ঞার প্রথম ২০ দিনে ২২৯টি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৭৭ জনকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ১০০টি মামলা করা হয়েছে।
অভিযানে সাড়ে চার টন ইলিশ, ২০টি নৌকা এবং ৩৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
৮ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে মৎস্য বিভাগের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স অভিযান চালায়।
মতিরহাট মাছঘাটের জেলে সফিক উল্যা ও মানা মাঝি বলেন, তারা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে মাছ ধরতে যাননি। এবার অভিযান আগের বছরের তুলনায় কঠোর ছিল। প্রশাসনের তৎপরতার কারণে অনেক জেলে নদীতে নামার সাহস করেননি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে তারা জাল ও নৌকা মেরামতের কাজ করছেন।
মজুচৌধুরীরহাট মাছঘাটের জেলে আবুল কালাম ও তোফায়েল আহমদ বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে তারা আবারও পুরোদমে মাছ ধরতে নামবেন। মাছ ধরে পরিবারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে চান তারা।
একই ঘাটের আড়তদার মিন্টু বলেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় মাছঘাটের আড়ত প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাঁর আশা, নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে এবং মাছঘাটগুলো আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে।
মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আবদুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দিনরাত নদীতে অভিযান চালানো হয়েছে। নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অভিযান সফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গত দুই বছর ইলিশের উৎপাদন কম ছিল। তবে এবার উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের চেয়ে ২ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











