শিরোনাম :

নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা ‘প্রায় অসম্ভব’, নির্বাচনে ধাক্কা ডানপন্থি জোটের

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬
অ- অ+

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। প্রাথমিক বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫০ থেকে ৫১টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর ইসরায়েলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।

বর্তমান পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৬৪। এবারের নির্বাচনে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৫১ থেকে ৫২টি আসন পেতে পারে। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেতে পারে মোট ১৮টি আসন।

সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। প্রাথমিক জরিপে কোনো পক্ষই এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জরিপের ফল চূড়ান্ত ভোটের সঙ্গে মিললে নেতানিয়াহুর পক্ষে আবারও সরকার গঠন করা কঠিন হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডভ ওয়াক্সম্যান আল-জাজিরাকে বলেন, জরিপের ফল সঠিক হলে নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকে থাকা ‘প্রায় অসম্ভব’ হয়ে উঠবে।

চ্যানেল ১৩-এর বুথফেরত জরিপের বরাত দিয়ে ওয়াক্সম্যান জানান, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ২০২২ সালের ৬৪ থেকে কমে প্রায় ৫০-এ নেমে আসতে পারে।

তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের জরিপেই নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৪ থেকে ২৫টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। গত নির্বাচনে দলটি পেয়েছিল ৩২টি আসন।

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোতের ইয়াশার পার্টি ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে। বিরোধী শিবিরের বিয়াখাদ পার্টি ১২ থেকে ১৩টি এবং বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টি ৯ থেকে ১০টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া ডানপন্থি বিরোধী দল ইসরায়েল বেইতেনু ৭ থেকে ৮টি, আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ৭টি এবং উগ্র ডানপন্থি ওতজমা ইয়েহুদিত ৬ থেকে ৭টি আসন পেতে পারে। অতিধর্মীয় শাস পার্টি ৬ থেকে ৮টি এবং ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৬ থেকে ৭টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সরকারপন্থি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের জরিপে নেতানিয়াহুর জোট তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। চ্যানেল ১৪-এর জরিপে তার জোট ৬২টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আই২৪ নিউজের জরিপে জোটটির সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৫ এবং চ্যানেল ১৬-এর জরিপে ৫৩।

আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে জটিল সমীকরণ

নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোও সরকার গঠনের জন্য আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তবে বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দল নির্বাচনি প্রচারে আরবপ্রধান দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে।

এ অবস্থায় বিরোধী নেতা আইজেনকোতের সামনে সরকার গঠনের পথ সহজ হবে না। আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন অথবা তাদের ভোটদানে বিরত থাকার মাধ্যমে পার্লামেন্টে সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে পারেন তিনি।

তবে ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান এবং বিয়াখাদ পার্টির নেতা নাফতালি বেনেট আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হতে পারে।

এর আগে ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত লিবারম্যান ও বেনেট—দুজনই আরব দল রা’আমকে নিয়ে গঠিত একটি স্বল্পস্থায়ী সরকারের অংশ ছিলেন।

নেতানিয়াহুবিরোধী সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিত

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আইজেনকোত দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি জনসমর্থন কমেছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের অধিকাংশ নাগরিক বর্তমান সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার প্রসঙ্গ টেনে আইজেনকোত বলেন, চূড়ান্ত ফল একই রকম হলে তা হবে ইসরায়েলের দায়িত্বশীল ইহুদিবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠের বিজয়।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ইচ্ছা বাস্তবায়ন, নেতানিয়াহু সরকারকে প্রতিস্থাপন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ একটি সরকার গঠনে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস জানিয়েছেন, সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দুই শিবিরের নেতারাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। চ্যানেল ১২-কে তিনি বলেন, ‘সবাই আমাদের সঙ্গে কথা বলছে।’

তবে আইজেনকোতের নেতৃত্বে সরকার গঠনের বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও আব্বাস স্বীকার করেছেন, বর্তমান আসনসংখ্যার হিসাবে বিরোধী দলগুলোর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা কঠিন।

আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে অবশ্য প্রাথমিক ফল নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তাদের সদর দপ্তরে প্রকাশিত ভিডিওতে সমর্থকদের করতালি ও উল্লাস করতে দেখা যায়। এ সময় উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন তারা।

ভোটার উপস্থিতি সর্বোচ্চ, চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষা

ইসরায়েলের এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৭৭ শতাংশের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

তবে বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলের পার্থক্য থাকতে পারে। ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো।

প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বিরোধী দলগুলোর সরকার গঠনের পথও অনিশ্চিত। কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে দেশটিতে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরায়েলে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

(ঢাকাটাইমস/২৮ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
অনলাইন গেমের নেশা মানসিক অসুখ, মুক্তির উপায়
বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান, খুলছে ২ লাখ কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
১৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, অন্ধ্রপ্রদেশে উচ্চ সতর্কতা