শিরোনাম :

কম্বোডিয়ায় নয় মাসে ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬
অ- অ+

কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণাবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ৩ হাজার ১০৪ জন বাংলাদেশিসহ ৮৭টি দেশের মোট ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য হয়েছিলেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কম্বোডিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবাল গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির অভিবাসন বিভাগের (জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন) সরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ১০৪টি আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বহিষ্কারের সংখ্যা বেড়েছে ৪১ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বহিষ্কারের সংখ্যা ৪০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বহিষ্কৃত বিদেশিদের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার চীনা নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া ৮ হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, ৪ হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, মিয়ানমারের প্রায় ২ হাজার এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা বা শনাক্তকরণের তথ্যের ভিত্তিতে বহিষ্কৃত সব বিদেশি নাগরিককে প্রতারণায় স্বেচ্ছায় জড়িত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে মানবপাচারের শিকার হয়ে জোরপূর্বক এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়টি পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন মনে করে, বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচার ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সংগঠনটির মতে, যথাযথ যাচাই ছাড়াই পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অভিযুক্ত বা প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত না করে তাঁদের ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

সংগঠনটি আরও বলেছে, কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো সেখানে আটকে আছেন, তার সঠিক তালিকা তৈরি করা জরুরি। কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়া থেকে অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে গিয়ে বাংলাদেশিরা যাতে পুনরায় মানবপাচারের শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৮ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দেশের বাজারে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
শাকিল হত্যায় ছেলের পক্ষে নন, বললেন এমপি আব্দুল আজিজ
বিদেশে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন: অনিশ্চিত পথে কতটা নিরাপদ বাংলাদেশের মানুষ
অবসরে যাচ্ছেন অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুজ্জামান