অগ্রগতি, বিশ্বের বিস্ময়

আনিসুর রহমান
 | প্রকাশিত : ২১ মার্চ ২০১৮, ২০:৩৫

১৯৭১ সাল। বহু জীবনের দামে বাংলাদেশ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জন করে। অতঃপর বাংলাদেশের স্থপতি, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বপ্নের স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। সেদিন জনসভায় বঙ্গবন্ধু প্রিয় বাংলাদেশ নিয়ে আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা শোনালেন, ‘বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড।’ তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে মনোযোগী হন। হেনরি কিসিঞ্জার, তৎকালীন ইউএস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ইজ অ্যা বটমলেস বাস্কেট।’

১৯৭৫ সাল। ঘাতকের তপ্ত বুলেটে বঙ্গবন্ধুসহ ১৭ জন নিহত হন। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সুদূর পরাহত হয়। দীর্ঘ ২১ বছর পর সপ্তম জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন হন জননেত্রী শেখ হাসিনা। জাতির কলঙ্কজনক ইতিহাস থেকে প্রকৃত ইতিহাস রচনা শুরু করলেন।

২০০৮ সাল, পুনরায় ক্ষমতাসীন হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২০১০-২০২১ সাল মেয়াদে উন্নয়নের প্লাটফর্ম তৈরি করে যার নাম prospective plan বা রূপকল্প-২০২১। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ হবে একটি তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর মধ্যম আয়ের দেশ। এজন্য সরকার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ঘোষণা করেন, ‘আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ, শুরু হয়েছে দারিদ্র্য ও পশ্চাৎপদতা হতে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ঐতিহাসিক কালপর্ব।’ এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী (২০১৬-২০২১) প্রণয়নসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা  (২০১৬-২০৩০) নির্ধারণ করে এবং  ২০২১ সাল নাগাদ মাথাপিছু আয় ২০০০ ডলার, প্রবৃদ্ধি ১০% উন্নীত করবে।

আসুন জেনে নিই Lest  Developed Countries (LDC) সম্পর্কে। প্রত্যয়টি  ১৯৬০ দশকে ব্যবহৃত হয়। জাতিসংঘ ১৮ নভেম্বর ১৯৭১ সালে এই তালিকা তৈরি করে। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে চালু এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে ৪৭টি দেশ এলডিসি তালিকা আছে। তালিকা প্রস্তুতকরণে মূলত বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়। কোন দেশ কী পরিমাণ বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্ত হবে তা নির্ধারণে এ তালিকা।  ১ জুলাই ২০১৫ সালে কেনিয়া, মিয়ানমার, তাজিকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়। বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর একটি দেশের  Gross National Income (GNI) ভিত্তিতে ক্যাটেগরি নির্ধারণ করা হয়। যেমন-

ডলার, ক্যাটাগরি ও  দেশসংখ্যা

০১-১০৪৫,  নিম্ন আয়, ৩১টি

১০৪৬-৪১২৫,  নিম্ন মধ্য, ৫১টি

৪১২৬-১২৭৪৫, উচ্চ মধ্য ৫৩টি

১২৭৪৬- বেশি,  উচ্চ আয়, ৮০টি

Least Developed Countries থেকে উত্তরণের কোনো দেশকে তিনটি আর্থ-সামাজিক শর্ত বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়।  জাতিসংঘ নির্ধারিত  ও বাংলাদেশের অর্জিত সূচকের অগ্রগতি নিম্নরূপ:

সূচক নির্ধারিত স্কোর ও অর্জিত স্কোর

GNI       ১১৯০               ১২৩০

HDI         ৬৬+              ৭২.৮+

EVI          ৩০-                  ২৫-

উপরিউক্ত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা এবং ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ তিন বছর পর  জাতিসংঘে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে। ১৬ মার্চ ২০১৮ সালে জাতিসংঘ উক্ত অগ্রগতি বিবেচনায় মিয়ানমার ও লাওসের সঙ্গে বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণা করে এবং ২২ মার্চ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে। এ উপলক্ষে সরকার মন্ত্রণালয়ভিত্তিক পাঁচ দিনব্যাপী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও এলডিসি উত্তরণ সংক্রান্ত প্রচারণার পাশাপাশি আলোচনা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৫৮ তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৩৫তম রাষ্ট্র। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৬০২ ডলার, জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ৭.২৪ শতাংশ, দরিদ্রতার হার ২৩.৫ শতাংশ করছেন এবং মানবন্নোয়ন ১৩৯ তম। সুতরাং  দ্রুত আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশকে টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন,পরিকল্পিত নগরায়ন, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা তথা সুশাসন  নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে তলাবিহীন ঝুড়ি স্বরূপ রাষ্ট্রটি ২০৪১ সাল নাগাদ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত হবে।"

লেখক: সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক), বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত