নিরাপদ খাদ্য আইনে আগস্টে ১ কোটি টাকা জরিমানা, মামলা ৫০টি

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ৫৯টি অভিযানে মোট ১ কোটি টাকা জরিমানা আদায় এবং ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৫টি অভিযানে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০টি মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগরের বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৯টি অভিযানে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসব ঘটনায় দায়ের করা হয় আরও ৯টি মামলা।
সব মিলিয়ে আগস্ট মাসে ৫৯টি অভিযানের মাধ্যমে ১ কোটি টাকা জরিমানা ও ৫০টি মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ১৯৮টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করেছে এবং ১৩টি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ দিয়েছে।
এদিকে গত ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়।
এই সাত দিনে ঢাকা মহানগর এলাকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নকল পণ্য উৎপাদন, পচা-বাসি খাবার বিক্রি এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআইয়ের সনদ প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসব ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি ও রং ব্যবহার, খাবারে কেওড়াজলের অননুমোদিত ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং পোড়া তেল ব্যবহারের মতো অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ ১৩৭টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে।
এ কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা প্রচারের পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক অডিওবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/৭ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







