এসবির এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িত ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার এজাহারনামীয় আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এরমধ্যে চারজনকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে র্যাব-১০ এবং সাভারের আমিন বাজার এলাকা থেকে র্যাব-৪ বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
র্যাব-১০ এর অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন–আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরান। বাকি চার আসামি হলেন–নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহম্মেদ ও মো. ওয়াসিম। এর আগে এই মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা জেলা পুলিশ।
সোমবার বেলা ১১টায় কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাঃ আসাদুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, গত ৫ আগস্ট ঢাকার সাভার আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেন পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের চালক এবং তার কয়েকজন সহযোগী অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।
র্যাব জানায়, একটি অটো রাখাকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন তার প্রতিবাদ করেন। এসময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সাথে এসআই আলতাফ হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে এসআই আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
পরবর্তীতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, ঘটনার পর আসামিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গতকাল রবিবার রাত সন্ধ্যায় গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারনামীয় ৪ জন অভিযুক্তকে ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আপন কিশোর গ্যাং এর মূলহোতা ও মাদক সাপ্লায়ার। তার নামে বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। ঘটনার সময় তিনি এসআই আলতাফকে এসএস পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত জিহাদ চাকু দিয়ে তাকে মারাত্মক জখম করে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা মূলত বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা সবাই মাদকাসক্ত ছিলেন। এসময় আলতাফ হোসেন গ্যারেজে বৃদ্ধকে মারধর করতে দেখলে মানবিকতা দেখিয়ে সেখানে প্রতিবাদ করেন। যার কারণে ক্ষিপ্ত হতে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা করে।
এদিকে একই ঘটনায় র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার থানাধীন আমিনবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪ জন এজাহারনামীয় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







