অস্ট্রেলিয়া–কানাডার ভিসার নামে প্রতারণা, ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ২

অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, সাতটি মোবাইল ফোন, ১৩টি সিম কার্ড এবং নয়টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন–মারিফুল ইসলাম (২১) ও বাচ্চা বাউ ওরফে হাসিনুর (২৮)। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য।
ডিবি জানায়, মামলার বাদী ছায়েদুল হক অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির আশায় অভিযুক্তদের কথায় বিশ্বাস করে মেডিকেল ফি, ভিসা প্রসেসিং, ডকুমেন্ট চার্জসহ বিভিন্ন খাতে ধাপে ধাপে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। পরে আরও টাকা দাবি করা হলেও বিদেশে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে ডিবির অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। পরে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এরপর মেডিকেল ফি, ভিসা প্রসেসিং, ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, বিমান টিকিটসহ বিভিন্ন খরচের কথা বলে ধাপে ধাপে টাকা আদায় করতেন।
বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তারা ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ভিসা অনুমোদনপত্র (ভিসা অ্যাপ্রুভাল লেটার), এলএমআইএ (LMIA) এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি একটি ভুয়া ভিসা যাচাইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে ডিবি। ওই ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট নম্বর দিলে ভিসা অনুমোদনের বার্তা দেখানো হতো।
ডিবি আরও জানায়, জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের আলামত এবং ভুয়া ভিসা–সংক্রান্ত নথি পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে চক্রটি অন্তত ৭২ জনের সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা করেছে বলে তথ্য মিলেছে।
গ্রেপ্তার দুজনকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































