রাশিয়ায় সামরিক বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি সামরিক বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় বিমানটির এক ক্রু সদস্য আহত হয়ে বেঁচে গেছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ বিমানটি ক্রাসনোইয়ারোভো শহরের কাছে বিধ্বস্ত হয়। মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।
চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের একটি জনবসতিহীন এলাকায় প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে কোনো গোলাবারুদ ছিল না।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি তদন্তে ‘অ্যারোস্পেস ফোর্সেস’-এর একটি কমিশন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পরের পরিস্থিতি বলে দাবি করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে জ্বলন্ত বিমান থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।
‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ সোভিয়েত আমলে তৈরি একটি বৃহৎ কৌশলগত বোমারু বিমান। এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপে সক্ষম। ১৯৫২ সালে বিমানটির প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন হয় এবং ১৯৫৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। বিমানটি এখনো রুশ সামরিক বাহিনীর ব্যবহারে রয়েছে এবং বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে বিমান দুর্ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের জুলাইয়ে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে তিনদা শহরের উদ্দেশে যাওয়ার পথে একটি ‘আন্তোনভ এএন-২৪’ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা ৪৮ জনের সবাই নিহত হন।
এ ছাড়া ২০২১ সালের আগস্টে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ১৬ আরোহী নিয়ে একটি ‘মিল এমআই-৮’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। ওই হেলিকপ্টারের অধিকাংশ আরোহী ছিলেন পর্যটক।
এদিকে সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
(ঢাকাটাইমস/৩০ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












