দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতি সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।
সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে বরাদ্দ করা অনুদান পূজা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশের সব পূজামণ্ডপে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের সময় ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আজান ও নামাজের সময় প্রয়োজনীয় নীরবতা বজায় রেখে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
অন্য ধর্মের উপাস্য সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো বা সম্পাদিত ঘটনার অপব্যবহারের মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সচেতন যুবসমাজকে গুজব প্রতিরোধে সঠিক তথ্য প্রচারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা আড়াল না করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডিনায়েল স্টেজে থাকতে চাই না। কেউ আটক হলেই তাকে পাগল বা না বুঝে ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দায় এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বরং শুরুতে কিছুটা ধাক্কা এলেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে মানুষের মনের কষ্ট দূর হয়।’
তিনি অপরাধীর পরিচয় গোপন না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে এবং দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক), ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, কল্যাণ ট্রাস্ট এবং পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












