দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো শুরু

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৪| আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৭
অ- অ+

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপরিচিত সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার ভিত্তিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর নিয়োগ চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। হাইকমিশন ও বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল-২০৬৮) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এই চাহিদাপত্র সত্যায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম কার্যত আবার শুরু হলো। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া, ব্যয় ও পরবর্তী ধাপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ায় নতুন বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় নতুন কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেশটি।

পরে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ সরকার জানায়, মালয়েশিয়া ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এসব কর্মীকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে পাঠানোর কথা রয়েছে।

সরকারি ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচন করেছে এবং আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজের অনুমতি দিয়েছে।

শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে। অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছিল।

সাম্প্রতিক সময়েও সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যে অভিবাসন ব্যয়, মেডিকেল পরীক্ষা ও কর্মী পাঠানোর সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে দ্রুত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে চাকরিপ্রত্যাশীদের কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ, মেডিকেল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা না দিতে সতর্ক করা হয়েছে। দালাল ও প্রতারক চক্রের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়া অতিরিক্ত ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তাদের বিমানভাড়া ও অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যয়ও কর্মীদের বহন করতে হবে না। প্রথম ধাপে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে বোয়েসেলের মাধ্যমে এসব কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে দেশটির আগ্রহের কথাও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন করে শ্রমবাজার চালুর শুরুতেই কর্মী নির্বাচন ও পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি ডাটাবেজ ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কর্মী বাছাই করা গেলে অতিরিক্ত ব্যয় এবং দালাল-মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হতে পারে।

সরকারি ব্যবস্থায় কম খরচে ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করা গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া, অভিবাসন ব্যয় ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

(ঢাকাটাইমস/২৯ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দলাদলি বন্ধ করুন, শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলুন: শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর 
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২
ফিশিং বোটের ইঞ্জিন বিকল, গভীর সমুদ্র থেকে ১৩ জেলেকে উদ্ধার কোস্ট গার্ডের
সরকারকে দ্বিমুখী প্রোপাগান্ডা মোকাবিলা করতে হচ্ছে: আবু হানিফ