‘সন্তানেরা প্রতিদিন জানতে চায়, বাবা কবে ফিরবে’, সেলিম প্রধানকে নিয়ে রুশ স্ত্রীর মানবিক আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৭
অ- অ+

বাবার স্পর্শ ছাড়া বড় হচ্ছে তিন সন্তান। প্রতিদিন বাবার ফেরার অপেক্ষায় তারা। কিন্তু ‘বাবা কবে ফিরবে’—সন্তানদের এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই রাশিয়ান নাগরিক আনা প্রধানের কাছে। কারাবন্দী স্বামী সেলিম প্রধান কারাগারে থাকায় সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সেলিম প্রধানের ন্যায়বিচার ও মুক্তির জন্য দেশবাসীর সংবাদমাধ্যমে এক পাঠানো বার্তায় এসব কথা বলেন আনা প্রধান। তিনি বলেন, একজন স্ত্রী, মা ও অসহায় মানুষ হিসেবে তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; তিনি শুধু তার স্বামীর মুক্ত ও তার জন্য ন্যায়বিচার চান।

সেলিম প্রধানের ন্যায়বিচার ও মুক্তির দাবিতে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক আবেদনে আনা প্রধান নিজেকে একজন স্ত্রী, মা ও অসহায় মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, স্বামীর জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা চান না, চান নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ বিচার এবং ন্যায়বিচার।

আনা প্রধান জানান, ২০১৯ সালে সেলিম প্রধানের নাম ক্যাসিনো–কাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। তিনি বলেন, সে সময় পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানো হয় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে ‘ক্যাসিনোর গডফাদার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে সেলিম প্রধান কখনোই ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী।

২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে নামিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আনা প্রধান বলেন, এরপর তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তার দাবি, দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পরও সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তিনি পাননি।

আনা প্রধান বলেন, তার স্বামী চার বছর এক দিন কারাগারে ছিলেন। ওই সময় তাদের তিন সন্তান—ডেনিয়াল প্রধান, ডমিনিক ও ডেমিয়েন—বাবাকে কাছে পায়নি। এতে পরিবারটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ‘আমার সন্তানেরা প্রতিদিন জানতে চায়, বাবা কবে ফিরবে?’ সন্তানদের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারার কষ্টের কথাও আবেদনে তুলে ধরেছেন তিনি।

বর্তমানে সেলিম প্রধান আবার কারাগারে রয়েছেন উল্লেখ করে তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি মামলায় জামিনের প্রক্রিয়া এগোলে অন্য মামলায় তাকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। মামলার এজাহারে তার স্বামীর নাম না থাকার পরও তাকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন আনা প্রধান।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘একজন মানুষ জামিনের সুযোগ পেলেই যদি অন্য মামলায় আবার গ্রেপ্তার হন, তাহলে একই মানুষটিকেই বারবার কেন এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে?’

আনা প্রধান আরও দাবি করেন, তার স্বামী জাপানে বড় হয়েছেন এবং সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। দেশের মানুষের জন্য কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে দাবি তার।

সেলিম প্রধানকে নির্দোষ দাবি করে তার স্ত্রী বলেন, ‘আমি বলছি না যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে।’ তার বক্তব্য, সেলিম প্রধান দোষী হলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত। তবে তিনি যদি ভুল তথ্য, অপপ্রচার বা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য সামনে আনা প্রয়োজন।

দেশের মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন আনা প্রধান।

তিনি বলেন, ‘পূর্বধারণা নয়, সত্যকে মূল্যায়ন করুন। অভিযোগের পাশাপাশি বাস্তব ঘটনাগুলোকেও গুরুত্ব দিন।’

আনা প্রধান আরও বলেন, তিনি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার চাওয়া কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, শুধু স্বামীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা।

বার্তায় সেলিম প্রধানের জন্য দেশবাসীর দোয়া, সহানুভূতি ও ন্যায়বিচার কামনা করেন আনা প্রধান।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
২৮ দিনে প্রবাসী আয় এলো প্রায় ৩১ হাজার ৮০ কোটি টাকা
সালথা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা নাঈম গ্রেপ্তার
পায়ের ব্যথায় আদালতে যেতে পারেননি পরীমনি, পেছাল শুনানি
বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, জনগণ ভালো থাকে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী