জিয়া হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফরকে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেছেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন দেশে ফেরার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই সাক্ষাতে শেখ হাসিনা তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে মোজাফফর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে তানভীর হাসান জোহা বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালে দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন মোজাফফর। পরে সিরাজগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের মাধ্যমে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হয়। সেখানে মোজাফফর শেখ হাসিনাকে স্যালুট দেন এবং এরপর তিনি কী করবেন, তা জানতে চান।
তখন শেখ হাসিনা তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মোজাফফর। একই সঙ্গে তাকে সেনাবাহিনীতে আত্মসমর্পণের পরামর্শও দেওয়া হয়। পরে মোজাফফর আত্মসমর্পণ করেন। সেনা সদর থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠিও যায়। তবে কোনো কারণে তার যোগদান গ্রহণ করা হয়নি বা প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়। এরপর বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হন তিনি।
তানভীর হাসান জোহা আরও জানান, মোজাফফরের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন।
এর আগে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর মরদেহ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মোজাফফর।
মোজাফফরের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তাঁকে জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তিনি ওই নির্দেশ পালন করেননি। পরে একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের মরদেহ একটি কবরে দাফন করা হয়। মরদেহগুলো কার, তা ইমামকে জানানো হয়নি বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মোজাফফর।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর দাবি করেছেন, জিয়াউর রহমানকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান গুলি করেছিলেন। একই জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













