রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকে টিকিট কেটে বাস কাউন্টারে এসে ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সকালে নাটোরের মালিকপক্ষ রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের পাঁচ থেকে সাতটি বাস আটকে রাখে। এর প্রতিবাদে রাজশিয়ার পরিবহন মালিকপক্ষ দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী থেকে দর্শনাগামী রাব্বি পরিবহনের একটি বাসকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিকদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলালের অনুমতি নিয়ে রাব্বি পরিবহনের বাসটি রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ভদ্রা এলাকার একটি কাউন্টার থেকে যাত্রী নিয়ে বাসটি নাটোরে পৌঁছালে সেখানে তুহিন পরিবহনের মালিকপক্ষ বাসটি আটকে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, রাব্বি পরিবহনের বাস থেকে যাত্রীদের মালামাল নামিয়ে তুহিন পরিবহনে তুলে দেওয়া হয়। পরে যাত্রীদের দর্শনার উদ্দেশে পাঠানো হলেও রাব্বি পরিবহনের বাসটি নাটোরে আটকে রাখা হয়।
এ ঘটনার জেরে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সড়ক পরিবহন গ্রুপের পক্ষ থেকে তুহিন পরিবহনের তিনটি বাস আটক করা হয়। পরে নাটোরে আটকে রাখা রাব্বি পরিবহনের বাস ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের তিনটি বাসও ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শনিবার সকালে নাটোরে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে রাজশাহীর মালিকপক্ষ। এর পরই রাজশাহী থেকে ঢাকাগামীসহ দূরপাল্লার সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শনিবার সকাল থেকেই রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে এসে বিপাকে পড়েন ঢাকাগামী যাত্রীরা। অনেকে আগেই টিকিট কেটে বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। কাউন্টারে এসে বাস বন্ধের খবর পেয়ে তাদের অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন।
ঢাকাগামী যাত্রী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট কেটেছিলাম। এসে জানতে পারি বাস চলাচল বন্ধ। মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের কারণে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের কেন ভোগান্তি পোহাতে হবে?’
আরেক যাত্রী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। দ্রুত দুই পক্ষের বসে বিষয়টির সমাধান করা উচিত।’
রাজশাহী পরিবহন শ্রমিকদের একজন শাহজাহান বলেন, ‘আমরা চাই নিয়ম মেনে সব রুটে বাস চলাচল করুক। রাজশাহীর অনুমতি নিয়ে চলা বাস নাটোরে আটকে দেওয়া হলে আমাদেরও ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।’
আরেক শ্রমিক বাবু বলেন, ‘মালিকদের বিরোধের প্রভাব শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের ওপর পড়ছে। আমরা চাই আলোচনা করে সমাধান হোক এবং দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হোক।’
এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নাটোর ও রাজশাহীর বাস মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ফলে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’
(ঢাকাটাইমস/৫ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







