পূবাইলে মাটিবিহীন আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে তাক লাগালেন সৌখিন কৃষক ফেরদৌস

গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে মাটিবিহীন আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষক ফেরদৌস মিয়া। নগরীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সাপমারা গ্রামের এই কৃষক দীর্ঘদিন ধরে পেঁপেসহ বিভিন্ন দেশীয় সবজি সফলভাবে উৎপাদন করে এলাকায় ‘সৌখিন কৃষক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের সম্ভাবনা যাচাই করতে সম্প্রতি নিজের তিন কাঠা জমিতে কোকোপিট ব্যবহার করে মাটিবিহীন পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন তিনি। প্রাথমিকভাবে ২০০টি পলিব্যাগে কোকোপিট ব্যবহার করে এ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছে।
কোকোপিট নারিকেলের ছোবড়া বা আঁশ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি একটি জৈব মাধ্যম, যা মাটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ মাধ্যমে গাছের শিকড়ের প্রয়োজনীয় পানি, বাতাস ও পুষ্টি উপাদান নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে কম জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।
‘সয়েললেস কাল্টিভেশন’ বা মাটিবিহীন চাষাবাদ বিশ্বের বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তিতে অগ্রসর দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গ্রিনহাউস ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কোকোপিট, হাইড্রোপনিকসহ নানা পদ্ধতিতে ফল ও সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে।
কৃষক ফেরদৌস মিয়া বলেন, প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি কোকোপিট ব্যবহার করে মাটিবিহীন কৃষি শুরু করেছেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন মালয়েশিয়ায় কোকোপিট ব্যবহার করে চাষাবাদে সাফল্য অর্জন করা বাংলাদেশি প্রবাসী কৃষক আরিফুল ইসলাম।
ফেরদৌস বলেন, মাটিবিহীন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করতে প্রাথমিকভাবে কিছুটা বেশি খরচ হয়। তবে উৎপাদন কার্যক্রম চালু হলে ব্যয় কমে আসবে। এ পদ্ধতিতে সফলতা এলে মৌসুমভিত্তিক নানা সমস্যা মোকাবিলা করে অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এ ধরনের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা ও বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারে।’
আপাতত কোকোপিটে শসা চাষের মাধ্যমে নতুন এ পদ্ধতির যাত্রা শুরু করেছেন ফেরদৌস। এতে সফলতা এলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
স্থানীয়রা বলছেন, কৃষক ফেরদৌসের উদ্যোগ সফল হলে গাজীপুরসহ দেশের অন্যান্য এলাকার কৃষকরাও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে উৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষ করে কম জমিতে পরিকল্পিতভাবে বেশি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মাটিবিহীন কৃষি পদ্ধতি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, কৃষক ফেরদৌসের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে।
(ঢাকাটাইমস/৬ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







