ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে কাতারপ্রবাসী সিফাতকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০৫
অ- অ+

রাজধানীর সবুজবাগের আদর্শপাড়া এলাকার একটি বাসায় কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহকে (২৭) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩। র‍্যাবের দাবি, ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন– আল আমিন হোসেন জয় (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)। এ ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা নাফিজা শেখ নেহা (২৩) নামের এক তরুণীকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র‍্যাব-৩-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

র‍্যাবের অধিনায়ক বলেন, সোমবার রাত দুইটার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর পাঁচটার দিকে খিলগাঁও থানার শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, সিফাত উল্লাহ কাতারপ্রবাসী ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি দেশে আসেন। নাফিজার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে সাজিদের সঙ্গে নাফিজার চার বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে নাফিজার সঙ্গে সিফাতের সম্পর্কের বিষয়টি সাজিদ জানতেন না।

র‍্যাবের ভাষ্য, গত ২৫ আগস্ট নাফিজার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাজিদ জানতে পারেন, তাঁর প্রেমিকার সঙ্গে সিফাতের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানার পর নাফিজার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।

এদিকে একই সঙ্গে লেখাপড়া করার সূত্রে নাফিজার সঙ্গে জয়ের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। র‍্যাবের দাবি, জয়কে স্থানীয়ভাবে ‘বড় ভাই’ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বলে জানানো হয়েছে। তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে নাফিজার বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি জানতে পেরে সিফাত তাঁদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে জয়ের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক বলেন, অনলাইন ব্যবসা পরিচালনার জন্য নাফিজা মাদারটেকের বড়ইতলা এলাকায় একটি কক্ষ সাবলেট নিয়ে থাকতেন। গত রোববার বিকেল তিনটার দিকে সিফাত মোটরসাইকেল নিয়ে ওই বাসায় নাফিজার সঙ্গে দেখা করতে যান। খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ আরও কয়েকজন সেখানে যান। তখন জয় ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় ঢোকার পর সিফাতের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে ইয়াছিন ও রাজু আহত হন। পরে তাঁরা নিচে নেমে আসেন। তাঁদের পেছনে সিফাতও নিচে নেমে মোটরসাইকেলে করে ওই এলাকা থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় জয়ের সহযোগীরা সিফাতকে পেছন থেকে ইট ছুড়ে মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে জয় লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। পরে অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে আহত করেন। একই সঙ্গে সিফাতের মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয় বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত সিফাতকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে প্রথমবার বিমানে, উচ্ছ্বসিত আমজনতার তারেক
আসিফ-মাহফুজ বিএনপিতে যোগ দিতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়েছিলেন: রাশেদ খান
চার দিনের সফরে জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ২১ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৫