নতুন আইনে গুমের বিচার নিয়ে বিস্তৃত হলো ট্রাইব্যুনালের পরিধি: চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৮| আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:০৪
অ- অ+

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাসের ফলে গুমের ঘটনায় বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নতুন আইনে গুমের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা থাকায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর তার অবস্থান গোপন করলে, অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখলে কিংবা আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। তবে কোনো গুমের ঘটনা যদি ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হয়, তাহলে সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে।

তিনি বলেন, এর আগে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে অধ্যাদেশ থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। ওই আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সে সময় কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি।

নতুন আইনের ৩৩ ধারার বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের কোনো মামলা ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকলে সেটির বিচার সেখানেই চলবে। অন্যদিকে, সেশন কোর্ট বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান কোনো মামলায় ঘটনা ব্যাপক বা পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হলে তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো যাবে।

এ ছাড়া পুলিশি তদন্তের যেকোনো পর্যায়ে কোনো ঘটনাকে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হলে সেটিও ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কিংবা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ও অন্য আদালতে চলমান এ ধরনের মামলা ট্রাইব্যুনালে এনে বিচারের উদ্যোগ নিতে পারবে বলে জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে জমা পড়া ও তদন্তাধীন গুমের অভিযোগগুলো নতুন আইনের আলোকে পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে। যেসব ঘটনা ‘এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ বা ব্যাপক ও পদ্ধতিগত অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়বে, সেগুলোর বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। আর অন্য ঘটনাগুলো স্বতন্ত্র গুমের অপরাধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে বিধান থাকলেও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। এ কারণে রুলস অব প্রসিডিউর সংশোধন করে বিস্তারিত বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিলের বিষয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারায় রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে কোনো আসামির আপিল গ্রহণযোগ্য নয়।

তার দাবি, আবুল কালাম আযাদের আপিল এখনো গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ৩০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর তার আর আপিল করার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সাজা স্থগিত বা কমানোর ক্ষমতা প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সরকারের এমন ক্ষমতা রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবুল কালাম আযাদকে আপিলের শর্তে আত্মসমর্পণের যে সুযোগ দিয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, কোনো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিশেষ আইনের বিধান অতিক্রম করা যায় না।

(ঢাকাটাইমস/৭ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near ') ORDER BY entry_time DESC,id DESC LIMIT 4' at line 4