পাসপোর্ট হারালে বা নষ্ট হলে কী করবেন? জেনে নিন সরকারের নতুন নিয়ম

হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী প্রতিবার হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত ফির পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এতে সই করেছেন। মঙ্গলবার পরিপত্রটি প্রকাশ করা হয়।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলেও জিডির কপি সংযুক্ত করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে।
এরপর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
পাসপোর্ট কোথাও আটকে থাকলে
জিডি যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব নয়, তাহলে আগের পাসপোর্ট রিভোক করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজনে ইন্টারপোলকে অবহিত করাসহ বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে।
সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
নতুন পাসপোর্টে থাকবে বিশেষ উল্লেখ
হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সময় ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘প্রিভিয়াস পাসপোর্ট ইজ রিপোর্টেড টু বি লস্ট’ লেখা থাকবে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের ‘লস্ট/রিভোক’ অবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।
পরিচয়গত তথ্য পুরোপুরি বদলানো যাবে না
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম—এই মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না।
তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ তথ্য সংশোধনের বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা যাবে।
পাসপোর্ট আংশিক নষ্ট হলে
আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে সেটি সমর্পণের ভিত্তিতে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।
তবে পাসপোর্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে এবং আবেদনকারীকে শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
হারানো পাসপোর্ট পরে পাওয়া গেলেও ব্যবহার করা যাবে না
হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর পাসপোর্টটি রিভোক করা হলে সেটি পরে পাওয়া গেলেও পুনরায় সক্রিয় করা যাবে না। ওই পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশ ভ্রমণও করা যাবে না।
পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় এবং নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে। বিদেশে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করবে।
কেন নতুন নির্দেশনা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করছেন।
পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত আগের পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনাগুলো সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্র জারির তারিখ থেকেই এটি কার্যকর হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













