‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্পের ধমক

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে মঙ্গলবার ভাষণ দিতে গিয়ে সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সকে ধমক দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিককে দেখে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার এখানে আমার সংবাদ কভার করার জন্য থাকা উচিত নয়।’
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মূল কক্ষে ভাষণ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে আসতে পারা সম্মানের বিষয়।’ পরে সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি যে সিএনএন এখানে আমার সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছে। আপনার এখানে আমার সংবাদ কভার করার জন্য থাকা উচিত নয়।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আপনারা তো বলেছিলেন যে আপনারা আমাকে কভার করবেন না।’
তবে পরে লাইভ সম্প্রচারে কলিন্স বলেন, সিএনএন কখনোই এমন কথা বলেনি যে তারা ট্রাম্পকে কভার করবে না।
গত শুক্রবার ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করেন। এসব গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ও ‘ভুয়া’ খবর প্রচারের অভিযোগ তোলেন তিনি।
এর পরদিন সোমবার তিন গণমাধ্যম ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। যৌথ মামলায় তারা হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের জবাব দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। বুধবার এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বিরোধের মধ্যেই মঙ্গলবার জাতিসংঘে সিএনএনের সাংবাদিকের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ হলেও জাতিসংঘে নিয়মিতভাবে অনুমোদিত গণমাধ্যম হিসেবে সিএনএন প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিল।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নেতিবাচক সংবাদ কভারেজ দেশের জন্য বিপজ্জনক। আদালত হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায় দিলে গণমাধ্যমগুলোকে আবার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত আদালত তা-ই করবে।’
এ সময় তিনি ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক টিমোথি কেলির সমালোচনা করেন। কেলিকে ট্রাম্প নিজেই ২০১৭ সালে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে একই ধরনের একটি মামলায় তিনি সিএনএনের এক সাংবাদিকের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তাই আপনি কখনোই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। আমি মনে করি ভুয়া খবর পরিষ্কার করার অধিকার আমাদের রয়েছে।’
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর থেকে ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রচারের অভিযোগ করে আসছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিবেদনের উল্লেখ না করে তিনি গণমাধ্যমগুলোর সংবাদকে ঢালাওভাবে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে সিএনএনকে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোও সংহতি জানিয়েছে। মঙ্গলবারের দৈনিক প্রেস শিডিউলে মার্কিন নেটওয়ার্ক পুলের কোনো উল্লেখ ছিল না। নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্টের সফর কভার করার জন্য সিএনএনকে নির্ধারিত পুল নেটওয়ার্ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
সিএনএনকে সরিয়ে দেওয়ার পর অন্য পুল সদস্যরা বিকল্প কোনো নেটওয়ার্ককে দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুল কভারেজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও সোমবার প্রেসিডেন্টের একটি অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। হোয়াইট হাউসের ওয়ার্কস্পেসে পরে একটি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল—‘আমি এপি, সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর পাশে আছি।’
সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ব্লেয়ার সেন্টার ফর টেলিভিশন অ্যান্ড পপুলার কালচারের পরিচালক রবার্ট থম্পসন মনে করেন, সার্বক্ষণিক সংবাদ কভারেজের অভাব প্রচারের আলো পছন্দ করা একজন প্রেসিডেন্টের জন্য প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা চিরকাল স্থায়ী হবে না।’
থম্পসনের মতে, স্বল্পমেয়াদে দর্শকদের ওপর এর বড় প্রভাব নাও পড়তে পারে। কারণ টেলিভিশন নেটওয়ার্কের বাইরে মানুষের খবর পাওয়ার অনেক মাধ্যম রয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এ ধরনের পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার ট্রাম্পের বিভিন্ন ভাষণ ও বৈঠক জাতিসংঘের নিজস্ব সম্প্রচার শাখা ইউএনটিভি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ফলে হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ট্রাম্পের জাতিসংঘ সফরের সংবাদ কভারেজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
(ঢাকাটাইমস/২৩ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













