যেভাবে রাজনীতিতে এসেছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নাম আসার পর আলোচনায় ছিলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। এ ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে মিষ্টির সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের শুরু। পরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে আসেন তিনি। একপর্যায়ে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি। তার পেশা ব্যবসা। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। পরে ওই কলেজের ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হন।
স্নাতক ডিগ্রি শেষ করার পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন মিষ্টি। পরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। মিরপুরের স্থানীয় রাজনীতিতেও তার সক্রিয়তা ছিল।
কাউন্সিলর থেকে সংসদে
মিষ্টির রাজনৈতিক জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় স্থানীয় সরকারে। তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মিষ্টির স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার। ২০০২ সালের ১০ মে ধানমন্ডির অর্কিড প্লাজার সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিউটনের মৃত্যুর পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
মিষ্টির ভাই ছিলেন বিএনপির প্রয়াত নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ২০১৫ সালের ৩ মে রাজশাহী কারাগারে তার মৃত্যু হয়।
সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি
চলতি বছরের এপ্রিলে বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মিষ্টিকে মনোনয়ন দেয়। পরে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৩ মে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংসদের দুটি কমিটির সদস্যও ছিলেন মিষ্টি। এটিই ছিল তার প্রথম সংসদীয় মেয়াদ।
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনা
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর মিষ্টির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে মিষ্টি প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে ওয়ার্ড কমিশনার থাকা অবস্থায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’র নামে ওই জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। এরপর তিনি আর সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলার মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













