কাঁদতে কাঁদতে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা বাবরি মসজিদ নির্মাণে আলোচিত হুমায়ুনের

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১
অ- অ+

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) আবেগঘন বক্তব্যে তিনি জানান, দুর্গাপূজার পর বিধায়ক পদ থেকেও পদত্যাগ করবেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে ভোট গণনার আগেই পরাজয় মেনে নেন হুমায়ুন। ওই আসনে তার ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রার্থী হয়েছেন।

হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, রেজিনগরের বাসিন্দাদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। তার দাবি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের বিশেষ ব্যাজ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই ব্যাজ পরে ঘোরাফেরা করা ব্যক্তিরা ভোট লুট করেছেন।

আবেগাপ্লুত হুমায়ুন বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করতে না পারলে রাজনীতি বা বিধায়ক পদে থাকার কোনো অর্থ নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজার পর তিনি মানুষের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষমা চাইবেন এবং এরপর রাজনৈতিক জীবন শেষ করার প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

এ বছর ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই রাজনীতি ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন তিনি। সুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী থাকা পর্যন্ত বিধানসভায় যাবেন না বলেও ঘোষণা দেন হুমায়ুন। এটিকে তিনি রাজনীতি থেকে ‘সন্ন্যাস’ নেওয়ার অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

হুমায়ুনের ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, হুমায়ুন কবির বিজেপির সুবিধা করতে চান, নাকি সত্যিকার অর্থে বিজেপির বিরোধিতা করতে চান—এখন তাকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এর আগে ভোটের দিন পুলিশ হুমায়ুন কবিরকে আটক করেছিল। পরে সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভোট দেওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি বুথে পুলিশ ভোটপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। গত দুই মাসে ৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—দুটি আসনেই জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন। রেজিনগরে তিনি ১ লাখ ২৩ হাজার ভোট পেয়ে বিজেপির বাপন ঘোষকে ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। দুটি আসনে জয় পাওয়ার পর তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগেও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলেন হুমায়ুন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের পর বিধায়ক পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। এরপর তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধের জেরে এজেইউপি গঠন করেন তিনি।

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়।

(ঢাকাটাইমস/৮ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়ন, নাথান বমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
ফুটপাত হোক দখলমুক্ত, হকারও হোক পুনর্বাসিত
যুক্তরাজ্যে সমকামী সেজে আশ্রয়ের আবেদন, বাংলাদেশি চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
২৫ বছর ক্ষমতার মসনদে মোদি, চা বিক্রেতার পরিবার থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী