বিশ্ব বাজারে বাড়লো স্বর্ণের দাম

ডলারের মূল্য ১৮ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমে আসায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুই মাসের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম।
গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৪০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩২ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে বুধবার ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের আয় বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম গত ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
এদিকে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৭ ডলারে পৌঁছেছে।
ডলারের মূল্য কিছুটা কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়েছে। এতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বেড়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বর্ণ এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং আপাতত এটি বিক্রেতাদের বাজার হিসেবেই রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে দাম বাড়ার ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি করতে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৭৫ ডলারের স্তর অতিক্রম করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাজার যদি দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের আয় বৃদ্ধিকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির পরিবর্তে সার্বভৌম ঋণ ও রাজস্ব ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে, তাহলে বন্ডের আয়ের বিপরীতে স্বর্ণের দাম ভিন্নমুখী হতে পারে। একই সঙ্গে মুদ্রার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কায় স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রবণতাও আবার বাড়তে পারে।
এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকেরা গত মাসে সুদের হার বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে বিভক্ত ছিলেন। সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, কিছু কর্মকর্তা জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামের আকস্মিক ওঠানামার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে, আরেকটি অংশ চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় কঠোর মুদ্রানীতির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ব্যবসায়ীরা ১৮ শতাংশ হিসেবে দেখছেন। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ ধরে বাজারে হিসাব-নিকাশ চলছে।
সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য, রেকর্ড পরিমাণ সরকারি ঋণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের জোয়ার থেকে তৈরি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি।
(ঢাকাটাইমস/৮ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












