দুর্গাপূজার নিরাপত্তা দেখতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এসআরবি ডিজি আহসান হাবীব পলাশ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করেছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ফোর্সেসের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
রবিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দেশজুড়ে ৬ হাজারের বেশি এসআরবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৫টি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তাঁরা টহল দেবেন।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তায় ৫৫০টির বেশি পিকআপ ও ৪৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং, ড্রোন ব্যবহার এবং সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেশাল ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সদস্য রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে এসআরবি মহাপরিচালক বলেন, গোয়েন্দা তথ্য, সাইবার মনিটরিং ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত নাশকতা বা উগ্রবাদী হামলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা মোকাবিলায় এসআরবি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা প্রতিরোধে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম নজরদারি চালাচ্ছে। যারা গুজব ছড়িয়ে উসকানি দেওয়ার মাধ্যমে সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করবে, তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পূজামণ্ডপে আগত নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো দুষ্কৃতকারী পূজামণ্ডপ এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআরবি মহাপরিচালক পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। প্রতিমা বিসর্জনের দিন যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বছর দেশে ৩২ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কমসংখ্যক পূজামণ্ডপে সমন্বিতভাবে পূজা আয়োজন করা গেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আরও সহজ হতে পারে বলে তিনি মত দেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













