ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর রেকর্ড, সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। সর্বশেষ হিসাবে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।
১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। এমন পরিস্থিতিতে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দলের সম্ভাব্য ১৯টি আসন নির্বাচনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরব দলগুলোর রেকর্ড আসন
নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও মনসুর আব্বাসের রা’আম পার্টি যৌথভাবে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। দেশটির নির্বাচনে আরব দলগুলোর জন্য এটি রেকর্ডসংখ্যক আসন।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের পর এই ফল সামনে এসেছে। নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্য নিয়ে অনেক আরব ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আরব দলগুলোর সর্বোচ্চ আসন ছিল ১৫টি।
কোন দল কত আসন পাচ্ছে
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৬টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে রয়েছে। আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি আসন।
নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াখাদ পার্টি ও ইউসুফ জাবারিনের জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১২টি করে আসন। বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির আসন আটটি।
এ ছাড়া ওতজমা ইহুদিত, শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, রা’আম ও ইসরায়েল বেইতেনু—প্রতিটি দল পেয়েছে সাতটি করে আসন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেয়েছে ছয়টি আসন।
সরকার গঠনে জটিল সমীকরণ
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোটে রয়েছে লিকুদ, শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, ওতজমা ইহুদিত ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম। তাদের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ৫৩, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে আটটি কম। বর্তমান নেসেটে এই জোটের আসন ছিল ৬৮টি।
অন্যদিকে, আইজেনকোটের জোটে রয়েছে ইয়াশার, বি’ইয়াখাদ, ডেমোক্র্যাটস ও ইসরায়েল বেইতেনু। এই জোটের আসনসংখ্যা ৪৮, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ১৩টি কম।
আরব দল দুটির সমর্থন পেলে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটস ছাড়া আইজেনকোটের জোটের অন্য সদস্যরা আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ফলে নির্বাচনে কোনো জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এখনো গণনা বাকি কয়েক লাখ ভোট
সেনাসদস্য, কারাবন্দি, বিদেশে কর্মরত কূটনীতিক এবং নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে না পারা অন্যান্য যোগ্য ভোটারের ভোট এখনো গণনা করা হয়নি। এসব ভোট ‘ডাবল এনভেলপ ভোট’ নামে পরিচিত।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের ভোটের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার। ভোটার আগে অন্য কোথাও ভোট দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করে এসব ভোট গণনা করা হয়। ফলে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগে।
বাকি ভোট গণনা শেষে আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই চূড়ান্ত ফল এবং সরকার গঠনের সমীকরণ নির্ধারণে এসব ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
(ঢাকাটাইমস/২৯ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












