নেতানিয়াহু হেরে গেছেন, আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান ইয়াইর গোলানের

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বলে দাবি করেছেন দেশটির ডেমোক্র্যাটস দলের চেয়ারম্যান ইয়াইর গোলান। আরব রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সরকার গঠনের জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোলান বলেন, আরব দলগুলোর আসন হিসাব করলে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের আসনসংখ্যা ৬৫-তে দাঁড়ায়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে এই সংখ্যা বেশি।
তিনি লেখেন, ‘নেতানিয়াহু হেরেছেন। আমি ১২০ পর্যন্ত গুনতে জানি। ৬৫ সংখ্যাটি ৫৫-এর চেয়ে বড়। ইসরায়েলের গণতন্ত্র এভাবেই চলে।’
গোলান বলেন, নির্বাচনের এই ফল কাজে লাগিয়ে আরব দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি নতুন সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, ইসরায়েলের সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করতে পারে—এমন সরকার গঠনে ইহুদি ও আরবদের রাজনৈতিক অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
নেতানিয়াহুর জোটের ‘জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ নিয়ে যুক্তিরও সমালোচনা করেন গোলান। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু যদি শুধু জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের দাবি করেন, তাহলে তাঁর জোটের অতি-গোঁড়া ইহুদি ধর্মীয় দলগুলোর ১৬ জন আইনপ্রণেতাকেও হিসাবের বাইরে রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রেও বিরোধী শিবিরের সংখ্যাগত অবস্থান শক্তিশালী থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরব দলগুলোর নেতারাও নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছেন।
জয়েন্ট লিস্টের প্রার্থী ইউসুফ জাবারিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, বর্ণবাদ ও সংঘাতের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরিতে তাঁরা প্রস্তুত।
অন্যদিকে, হাদাশ-তাআল জোটের নেতা আহমাদ তিবি ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী শিবির সাহসী উদ্যোগ নিলে তাঁরা সহযোগিতা করতে রাজি আছেন।
ডেমোক্র্যাটস দলের আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভও নির্বাচনের ফলকে ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সমীকরণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তবে বিরোধী দলগুলো আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে নির্বাচনের বাকি ভোট গণনা এবং দলগুলোর পারস্পরিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের হিসাব।
(ঢাকাটাইমস/২৯ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













