জাতীয় যুব দিবস আজ, পুরস্কার পাচ্ছেন ১৪ জন

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আজ ১ নভেম্বর পালিত হচ্ছে জাতীয় যুব দিবস। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জনকে জাতীয় যুব পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মধ্যে চারজন যুব সংগঠক ও ১০ জন সফল আত্মকর্মী রয়েছেন।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিবসের মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে ১২ হাজার নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ৫৫টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চাকরি মেলার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এর মধ্যে মেলার দিনই অন্তত ১০০ জনকে তাৎক্ষণিক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ এবং শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এ হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ লক্ষ্যেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি জানান, ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি এবং কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কেয়ারগিভার হিসেবে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আমিনুল হক বলেন, দেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কেয়ারগিভার তৈরি করা সম্ভব হলে তাদের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে। এ লক্ষ্যে বিদেশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এদিকে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, খাল খনন, স্বেচ্ছায় রক্তদান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং যুবঋণ বিতরণ। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের মধ্যে সনদ বিতরণ ও সফল উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দেওয়া হবে।
দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেকারত্ব, দক্ষতার ঘাটতি, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানো এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব এখনো তরুণদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে মানসম্মত শিক্ষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান আরও বাড়বে।
(ঢাকাটাইমস/০১ নভেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













