এবার চাল আমদানি হয়েছে, যে চালে আফলাটক্সিন পাওয়া গেছে

বহুবার বলেছি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বের করে ইউএস এফডিএ-এর মত সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে এদেশে নিরাপদ খাদ্য কখনোই নিশ্চিত করা যাবে না। তবে শর্ত আছে একটা। সেখানে কোনো দলদাস, মেরুদণ্ডহীন বা সহমত ভাই বসানো যাবে না। আবার সেটা কখনো হবেও না।
এবার আমাদের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যে লুলা, কানা, খোঁড়া, তার চমৎকার উদাহরণ দিচ্ছি একটা।
চাল, গম, ইত্যাদি খাদ্য আমদানি করে খাদ্য অধিদপ্তর। এরপর পরিবহন, মজুদ, বিতরণ, বাজার নিয়ন্ত্রণও করে খাদ্য অধিদপ্তর। খাদ্য অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, দুই সংস্থাই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
এবার চাল আমদানি হয়েছে, যে চালে আফলাটক্সিন পাওয়া গেছে। এটা ভয়াবহ এক কন্টামিনেশন, যার কাজই হচ্ছে ক্যান্সার সৃষ্টি করা। খাদ্য নষ্ট বা পচে গেলে সেখানে আফলাটক্সিন সৃষ্টি হয়। কাজেই আফলাটক্সিন নিয়ে কোন খাদ্য ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ পুরো জগতজুড়ে। না মানুষের জন্য, না প্রাণী বা মৎস্য খাদ্যে।
এবার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কি পারবে নিজের মন্ত্রণালয় বা খাদ্য অধিদপ্তরের কারো বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে!!
অথবা সেই চালের নমুনা সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ল্যাব পরীক্ষা করে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে? সব নষ্ট চাল যাতে গোপনে বাজারে চলে না যায়, বা ফিডে ব্যবহৃত না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে!!
কিছুই পারবে না। কারণ এটা বাংলাদেশ। কোনো সংস্থা বা অথোরিটিকে কোনো দিন কখনো স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হবে না এই দেশে। কোনো সরকারই দেবে না। কেয়ামত পর্যন্ত হবে না। কারণ, স্বার্থ। রাজনৈতিক, মাফিয়া সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতি। আর আমলারা পারবে না, পদ পদোন্নতি, এক্সটেনশন এবং চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ।
এর আগেও যতবার নষ্ট চাল আমদানির অভিযোগ ছিল, কোনোবারেই শেষ পর্যন্ত সেই চালের কী অবস্থা হয়েছিল, তা আর জানা যায়নি। সম্ভবত এবারও জানা যাবে না। আমার ধারণা সব আমাদের পেটে, অথবা মুরগী, মাছের পেট হয়ে আমাদের পেটে।
স্বরণ করিয়ে দিচ্ছি। হেভিমেটাল যেমন কখনো তাপ, ঠান্ডা বা কোনো কিছুতেই নষ্ট হয়না, তেমন আফলাটক্সিন হাজার ডিগ্রি তাপমাত্রা বা মাইনাস শত ডিগ্রি ঠান্ডায়ও নষ্ট হয় না।
আমাদের দেশে শুকনো মরিচ ও বাদামে পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি আফলাটক্সিন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













