নেতানিয়াহুকে সরাতে ইসরায়েলের রাজপথে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২
অ- অ+

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রধান বিরোধী দলকে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আহ্বান জানিয়ে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। শনিবার রাজধানী তেল আবিবে আয়োজিত এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দেশটিতে প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য এটিই হয়তো শেষ সুযোগ।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিক্ষোভকারীরা জানান, নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধী দলগুলোর এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। তারা নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা করেন।

নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ শনিবার রামাল্লা থেকে জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হোক—এমন প্রত্যাশা করছেন অনেক মানুষ। তাদের দাবি, গাদি আইজেনকোটসহ বিরোধী নেতাদের সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তবে বিক্ষোভের বিপরীতে নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও পাল্টা কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাদের আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা বলেন, ‘তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েলে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না।’

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল। একজোট হয়ে তারা মোট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘রাআম’ ও আরব নেতৃত্বাধীন তিন দলের জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছে। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকোটের জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। এতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সম্ভব হতে পারে। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে এখনো আপত্তি রয়েছে।

এদিকে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতার থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন নেতানিয়াহু। তবে কাতার এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে অভিহিত করেছে।

আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ জানান, ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি তারা এ ঘটনাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সঙ্গে তুলনা করছে।

ওই হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং শতাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস যোদ্ধারা।

নূর ওদেহের ভাষ্য, ইসরায়েলের রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের ভোট ও রাজনৈতিক অবস্থান এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, বিরোধী নেতা আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর।

(ঢাকাটাইমস/০১ নভেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঢাকার ৯৮ বাস রুট কমে হচ্ছে ৩২, আজ ৬ রুটের উদ্বোধন
A Strategic Roadmap for Investment, Industrialisation and Sustainable Growth, 2026–2031
এবার চাল আমদানি হয়েছে, যে চালে আফলাটক্সিন পাওয়া গেছে
পুরোনো ভিডিও দিয়ে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সতর্ক থাকার আহ্বান