শরীফের চাকরি ফেরানো থেকে কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নিজের রায়ের বিবরণ দিলেন সাবেক বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২০
অ- অ+

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনের চাকরি পুনর্বহাল, কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের দেওয়া রায়ের বিবরণ তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান (এম আর হাসান)। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু জনসমক্ষে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি।

শুক্রবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন সাবেক এই বিচারপতি।

ঢাকা টাইমস পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

হাইকোর্টের যে রায়ের আলোকে দুদকের শরীফ নামের এই ভদ্রলোক তাঁর চাকরি ফিরে পেয়েছেন সেই রায়টি আমি দিয়েছিলাম ০৯।০৭।২৫, সার্ভিস ম‍্যাটারে একটি লিডিং কেইস। সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বা বিতর্কিত সকল রায়ের পুরো কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু জনসমক্ষে আসা অপরিহার্য ।যাতে জনগণ নিজেই রায়টি মুল‍্যায়ন করতে পারেন।এছাড়া,আংশিক রায় প্রকাশ বা রায়ের মনগড়া বা ভুল ব‍্যখ‍্যা কোন কোন ক্ষেত্রে আদালত অবমাননা বা অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।

জনাব শরীফ দুদকের যে আদেশ মুলে চাকুরী হারিয়েছেন সেই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন করেন। আমি এবং বিচারপতি বিশ্বজিত দেবনাথ,আমাদের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি শুনানি করে।আমরা এই রায়টি দিয়েছি এবং একই সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছি সকল সুযোগ-সুবিধাসহ তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করার।

তদ্রপ,প্রায় ৪০/৫০ জন জেল-ওয়ার্ডারকে চাকরিতে নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছি ২০২৫ এর একই সময়ে ।২০১৬ সালে এক রায়ে বলেছিলাম বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরকে ৬০ দিনের বেশি সাসপেন্ড করে রাখা যাবেনা।যদি,সাসপেনশনের মেয়াদ ৬০ দিন অতিক্রম করে তবে ৬১ দিন থেকে তাদেরকে পুর্ণাঙ্গ বেতন দিতে হবে ।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদনুসারে একটি প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো এবং ২০১৭ সালে মন্ত্রনালয় প্রজ্ঞাপন জারির করে এবং এর মাধ্যমে হাজার হাজার শিক্ষককে সাময়িকভাবে ভাবে বরখাস্ত হয়ে বছরের পর বছর আর্থিক কষ্ট বা ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।আমি মানুষের রেজেকের অধিকারটি রক্ষা করার চেষ্টা করেছি,সর্বদাই। জীবন রক্ষাকারী ঔষধের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা (অঢেল অর্থ-সম্পাদকের মালিকদের হাতে না রেখে) সরকারের হাতে ন্যস্ত করেছি।২০১৬ সালে কর্ণফুলী নদীর পাড়ের প্রায় ২২০০/২৩০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলাম,যা শক্তিশালী মহলের সকল বাধা পেরিয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে।ব‍্যাবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতারনামুলক কাজ বা ব‍্যাংক ডিফল্টারদের বিরুদ্ধে অনেক রায় দিয়েছি,যা’তে প্রকৃত ব্যবসায়ী বা ব‍্যংক ক্ষতিগ্রস্হ না হয় (নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি ,হয়তো জীবিকার জন্য আবারো আইন পেশায় ফিরতে হবে,সজ্ঞানে এই আশঙ্কা নিয়েই)।

কিন্তু,অধিকাংশ নাগরিকগন উচ্চ-আদালতের রায় ও ভুমিকা কি ভাবে আইনের শাসন,মৌলিক অধিকার রক্ষা,অপরাধ দমন এবং একটি ন‍্যায়ভিত্তিক সভ‍্য সমাজ গঠনে প্রভাব ফেলে সে’ বিষয়ে জানতে অনাগ্রহী বা অজ্ঞ।এমনকি,জনাব শরীফ উদ্দিনের দায়ের করা রীটে প্রদত্ত আমার এই রায় মেনে না নিয়ে সরকার আপিল অনুমতি চেয়েছে আপিল বিভাগে।ফলে,আমার দেয়া রায় দীর্ঘ সময় স্থগিত ছিলো(যদিও ‘সরকার বাহাদুর’ই সকল কৃতজ্ঞতার হকদার)।এসব বিষয়ে সজাগ থাকা এবং সত‍্য কথাটি জানার আগ্রহ না থাকলে সেটি হবে নাগরিক হিসেবে নিজের ভুমিকা পালনে অবহেলা,যার ভুক্তভোগী হবেন নাগরিকরা নিজে।

কিছু জামিন আদেশ বিতর্ক এবং নাগরিক অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে(যেমন,প্রকাশ‍্যে পাথর মেরে হত্যা মামলা,মাদক,ধর্ষন এজাতীয় মামলায়),যেগুলোর বিষয়বস্তু জনসমক্ষে প্রকাশ হওয়া দরকার।

তেমনি-বিচার মানি,কিন্তু তাল গাছটি আমার-এইরূপ একটি কথা যে সমাজে প্রচলিত সেখানে ন‍্যায় বিচার করা কতটুকু কঠিন,সেটি ভাবতে হবে। এরকম একটি সমাজে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ রায় হলেও খেসারতে দিতে হতে পারে ।

বিশেষ করে আর্থিক ভাবে বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হলে।অধিকন্ত,মিডিয়ার উপর প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এমন ব্যক্তি-বর্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ রায় হবার পর (আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি না নিয়ে/না পেয়ে বা আপিল করার সাহস না করে বা মেরিট না থাকায় এবং এমনকি সাব-জুডিস বা বিচারাধীন মামলায়) নানা অপপ্রচারের আশ্রয় নেয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে এক্ষেত্রে,মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে ।

এই সকল রায়ের কন্টেন্ট সাধারণ মানুষ জানতে পারলে আদালত বা বিচারকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবার সুযোগ বা আশঙ্কা থাকেনা।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বক্তব্যে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
টিসিবির পণ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে হলুদ, মরিচের গুঁড়া ও চা, নভেম্বরে বিক্রি শুরু
মা ইলিশ রক্ষায় নৌবাহিনীর ২১২ অভিযান, ৫৭০ কেজি ইলিশ জব্দ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতির বাসার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ