বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগের খবরের পর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমতে দেখা যায়।
আজ বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১টা ৩২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১১৪ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ ডলার ৪ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০১ ডলার ৭৪ সেন্টে।
নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমা বলেন, শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। তবে তেলের দাম কমার পরিমাণ এখনো সীমিত।
শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাজারে রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা জোরদার হওয়ার শঙ্কা এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। জোটটি ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার দাবি করেছে।
এদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, বুধবার হুতিরা এডেন বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এর আগে হুতিরা সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল। তবে ওই হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। স্থাপনাটির দৈনিক তেল পরিশোধন সক্ষমতা ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে নতুন একটি খসড়া চুক্তি তেহরানের কাছে উপস্থাপন করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবটিকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, এতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর্যায়েও পড়ে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে তেহরান এখনো গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে এক সপ্তাহেরও কম সময়ে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির বাণিজ্যিক মজুত থেকে ১৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কমেছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা ওই সময়ে মজুত ১৫ হাজার ব্যারেল বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
তবে একই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের মজুত ৩৯ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা এ সময়ে পেট্রলের মজুত ৯ লাখ ব্যারেল কমবে বলে ধারণা করেছিলেন।
সব মিলিয়ে, শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে।
(ঢাকাটাইমস/২৯ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













