সাড়ে চার বছর পর দুদকের চাকরিতে ফেরার পথ খুলল শরীফ উদ্দিনের

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে ফেরার পথ খুলেছে। জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল প্রত্যাহার করেছে দুদক। ফলে তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহালে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার শরীফ উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দীন দোলন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
আইনজীবী সালাহ উদ্দীন দোলন বলেন, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত দুদকের লিভ টু আপিল খারিজ করেছেন। ফলে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে দুদক। পরে সংস্থাটি সেই আবেদন আর পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৫ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি খারিজ করে আদেশ দেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁকে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল।
দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন শরীফ উদ্দিন। ওই সময়ে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম, রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং ইয়াবা চোরাচালানসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার অনুসন্ধান করেন তিনি।
তাঁর অনুসন্ধানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে আসে। চাকরির মেয়াদে প্রায় অর্ধশত মামলা এবং ২০টির বেশি অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
কক্সবাজারের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দুর্নীতি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নিয়োগ, পদোন্নতি ও গ্যাস সংযোগে অনিয়ম এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও অনুসন্ধান করেন শরীফ উদ্দিন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি ১৮২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন।
২০২১ সালের ১৬ জুন তাঁকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। পরে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীতে কর্মরত অবস্থায় তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করে দুদক। এ ঘটনায় সে সময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
চাকরিচ্যুতির আদেশ এবং দুদক কর্মচারী বিধিমালার ৫৪(২) বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন শরীফ উদ্দিন। পরে ওই রিটের শুনানি ও আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি আবার হাইকোর্টে শুনানির জন্য ওঠে।
২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই আদালত শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির আদেশ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদেশটি শুরু থেকেই বাতিল ঘোষণা করে তাঁকে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক লিভ টু আপিল করলেও শেষ পর্যন্ত তা আর পরিচালনা করেনি। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকায় সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পর দুদকের চাকরিতে ফেরার আইনি পথ খুলেছে শরীফ উদ্দিনের।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













