৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন
‘অনেক বিচারক বেলা ১১টায় এসে দেড়টা-দুইটায় চলে গেলে চলবে না’: আইনমন্ত্রী

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আদালতে এসে দেড়টা-দুইটার মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যান—এমন চর্চা চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কনফারেন্স রুমে ই-পারিবারিক আপিল আদালত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতটির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় এমন অভিযোগ আছে, কেউ কেউ দুই-তিন ঘণ্টা কোর্ট করেন। বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুটোর মধ্যে কাজ শেষ করে চলে যান। এটা চলবে না।’
তিনি বলেন, কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা আয়েশি জীবনযাপনে অভ্যস্ত হলে তাঁর জন্যও ব্যবস্থা করা সম্ভব। তবে দায়িত্ব পালনে অবহেলার সুযোগ নেই।
তরুণ বিচারকদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, তরুণ বিচারকেরা অনেক বেশি স্মার্ট। তাঁদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থাকে মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গায় পরিণত করতে হবে।
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল খাতকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আরও দক্ষ হতে হবে। তরুণ বিচারকেরা এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশে ৪৬ লাখের বেশি মামলা চলমান রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর অমানবিক চাপ পড়ে। এই চাপ কমাতে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, ই-বেইল বন্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও হাজিরা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল জনগণ পাচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করতে নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিচারপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার কমাতে ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু করা হয়েছে।
এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাঁচ ধরনের পারিবারিক মামলা পরিচালনা করা যাবে। সেগুলো হলো—বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তান বা শিশুর অভিভাবকত্বসংক্রান্ত মামলা।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবীর, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ ঢাকায় কর্মরত বিচারকেরা উপস্থিত ছিলেন।
(ঢাকাটাইমস/২৯ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













