১৫ দিনের মধ্যে কমিটি গঠন, তিন মাসে পুকুরের তালিকা দাখিলের নির্দেশ
পাঁচ শহরের পুকুর রক্ষায় মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

দেশের পাঁচ জেলা শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুর দখল ও ভরাট বন্ধে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম শহরের পুকুর রক্ষায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের ১৫ দিনের মধ্যে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পাঁচ শহরে রেকর্ড অনুযায়ী কতটি পুকুর রয়েছে, তার তালিকা তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পাঁচ শহরে শত শত পুকুর অবৈধভাবে দখল ও ভরাট এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) করা এক রিটের শুনানি শেষে আদালত এসব নির্দেশ দেন।
আদালত এ বিষয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। রুলে পাঁচ শহরের রেকর্ডভুক্ত পুকুর রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, পুকুরগুলো কার্যকরভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং পুকুর দখল ও ভরাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে। যাতে কেউ রেকর্ডভুক্ত পুকুর দখল বা ভরাট করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে কমিটিকে। এ বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদনও দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম শহরে রেকর্ড অনুযায়ী পুকুরের সংখ্যা উল্লেখ করে তিন মাসের মধ্যে হলফনামা আকারে তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন এইচআরপিবির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নূর মোহাম্মদ আজম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) এস এম ইমামুল মুশফিকুর।
শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পুকুরসহ বিভিন্ন জলাধার ভরাট ও দখল করা নিষিদ্ধ। এসব আইন লঙ্ঘন করে কেউ পুকুর দখল বা ভরাট করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তা সত্ত্বেও বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম শহরে শত শত পুকুর দখল ও ভরাট করা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বলেন, পুকুর ও জলাধার সংরক্ষণে আইনি বিধান থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পুকুরগুলো রক্ষার জন্য এইচআরপিবির পক্ষ থেকে রিটটি করা হয়েছে।
রিটে পরিবেশ, অর্থ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পাঁচ শহরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। এইচআরপিবির পক্ষে রিট আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, আইনজীবী রিপন বারই ও আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













