সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত শেষ করতে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি জানতে টাস্কফোর্সের প্রধানকে আগামী বছরের ২৭ এপ্রিল নথিপত্রসহ সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকেও তলব করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মো. মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালতের বেঁধে দেওয়া সর্বশেষ ছয় মাসের মেয়াদ গতকাল শেষ হয়েছে। আজ বিষয়টি আদেশের জন্য উঠলে রাষ্ট্রপক্ষ তদন্তে কিছু অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে নতুন করে এক বছর সময় প্রার্থনা করে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তারা কিছু আলামত ও ৩০০টি সিডি পেয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি সিডি পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। বাকি ২১০টি সিডি পরীক্ষা করতে আরও সময় প্রয়োজন। তবে এটি একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলা হওয়ায় আমরা এক বছর সময় দেওয়ার বিরোধিতা করি। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেছেন।
শিশির মনির আরও জানান, আগামী বছরের নির্ধারিত দিনে টাস্কফোর্সের প্রধান, আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সিডি পর্যালোচনার অগ্রগতি প্রতিবেদনসহ আদালতে হাজির হতে হবে।
বিচারহীনতার কারণে পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টাস্কফোর্সের দুই বছরসহ দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনও জানা গেল না প্রকৃত অপরাধী কে। মেঘ (সাগর-রুনির ছেলে) ছোট বয়সে মা-বাবাকে হারিয়েছে। আশা করছি, রাষ্ট্রপক্ষ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তদন্ত শেষ করবে এবং নতুন করে আর সময় চাইবে না।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কয়েক দফায় সময় বাড়ান।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১৩০ বার পিছিয়েছে।
(ঢাকা টাইমস/২৭অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













