ফায়ার সার্ভিসকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৪
অ- অ+

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ও প্রত্যাশিত মানের সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরের তালতলায় সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিসের সেবার মান উন্নয়ন ও সেবাপ্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে কাজ করছেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নাগরিক সুবিধা ও সেবার মানও আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে উন্নত করতে হবে। সিলেট এমন একটি শহর, যার বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্ত। তাই এ শহরের নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর তিন বছর পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ করবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে নাগরিকসেবা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। সিলেটে জনসংখ্যা ও বসতির ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক নাগরিকসেবার চাহিদাও বাড়ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট ও এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ দেশের বাইরে বসবাস করেন। বিভিন্ন দেশের নাগরিক সুবিধা ও সেবার সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ পরিচয় রয়েছে। এমন একটি শহরে নাগরিকসেবা কাঙ্ক্ষিত মানের না হলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই আধুনিক ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দিতে হবে।

সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি ১৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনোভাবেই যেন এ সময়সীমা ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, এ প্রকল্পের সঙ্গে পুরো জনপদের নিরাপত্তা জড়িত। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের প্রাণও দিতে হয়। তাদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ঝুঁকি নিয়ে এ বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করেন।

তিনি বলেন, ১৯৩৯-৪০ সালের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমের সূচনা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, বাণিজ্যিক ভবন, কলকারখানা ও আবাসিক স্থাপনাসহ নগরজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ বাহিনীর সদস্যরা সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের অনেকে প্রাণও দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিলেটে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা জরুরি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন স্টেশনটি চালু হলে নগরবাসীর জরুরি নিরাপত্তাসেবা আরও জোরদার হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও অন্য অতিথিরা ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদফতরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।

(ঢাকা টাইমস/২৭অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের
মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দিতে বাধা প্রদানকারীদের এর পরিণতি ভোগ করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা
রাশিয়া-ইউক্রেনের রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহত ১৭
হাম উপসর্গ ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৯৫