শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট 

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৭
অ- অ+

দেশের ৪৭ তম জি আই পণ্য হিসাবে স্বীকৃত জাতীয় ফল কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে অফলাইন ও অনলাইন ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উৎপাদনের শুরু থেকেই কাঁঠালের বিস্কুটের চাহিদা বাড়তে থাকায় আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে উৎপাদনের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের মোহতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেন আব্দুস সাত্তার। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। বাজারে আসার পর থেকেই পণ্যটি অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমে ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে।

উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের শখ বিদেশ ভ্রমণ। গত বছর চীন সফরে গিয়ে তিনি কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে প্রতিবছর অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের বিষয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই চিন্তা থেকেই এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেন।

তিনি জানান, প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় একে ভিন্নতা এনে দিয়েছে। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আব্দুস সাত্তার বলেন, চীন সফরে গিয়ে দেখেছি, কাঁঠাল দিয়ে নানা ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

কাঁঠালের বিস্কুট কিনতে আসা মাহমুদুল আলম পলমগীর বলেন, প্রথমে কৌতূহলবশত কাঁঠালের তৈরি বিস্কুট কিনেছিলাম। খাওয়ার পর এর স্বাদ ও ঘ্রাণ খুবই ভালো লেগেছে। তাই আবারও কিনতে এসেছি। এই বিস্কুটের মাধ্যমে সারা বছরই কাঁঠালের স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল দিয়ে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর অনেকগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের এমন মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ একদিকে যেমন কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে, তেমনি দেশীয় খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দেবে।

(ঢাকা টাইমস/১২আগস্ট/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আগামি বছরের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে আলাদা থানা চালু করা হবে: ববি হাজ্জাজ
ট্রাম্পকে হত্যার নাটক সাজায় ইসরায়েল: তুরস্ক
গভীর রাতে পত্রিকা অফিসে হামলা সাধারণ কোন ঘটনা নয়, স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর চরম আঘাত
গেন্ডারিয়ায় মিষ্টির কারখানায় অভিযান, বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা