পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ৭১ সন্ত্রাসী নিহত

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১
অ- অ+

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে গত ৯৬ ঘণ্টায় সন্ত্রাসবিরোধী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, এসব অভিযানে ভারত ও আফগানিস্তানের ‘মদতপুষ্ট’ ৭১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড’র।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে এসব তথ্য দিয়েছে। তবে ইসলামাবাদের এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও কাবুলের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে কথিত দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে ঢোকার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। আফগান বাহিনীর দাবি, ওই অভিযানে ২৮ জন সন্ত্রাসী নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন।

তবে আফগানিস্তানের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ একে ‘হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে মন্তব্য করেছে।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নুরিস্তান বা আফগানিস্তানের অন্য কোথাও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার দাবি তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ এবং আফগানিস্তানে সক্রিয় দায়েশ বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগও ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান। তবে নয়াদিল্লি ও কাবুল বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। টিটিপি কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।

ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে টিটিপি সদস্যরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আফগান সরকারও বলে আসছে, দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরে। এরপর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে। এসব হামলার বড় অংশ টিটিপি চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাটে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার পর আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এসব হামলাকে ‘পরিকল্পিত, নির্ভুল, পরিমিত ও আনুপাতিক’ বলে বর্ণনা করে। পাকিস্তানের দাবি, হামলাগুলো শনাক্ত করা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এসব স্থাপনা ড্রোন হামলার চেষ্টার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।

একই সঙ্গে আফগান তালেবান সরকারের প্রতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বৈরী তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘কার্যকর, সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ’ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

(ঢাকাটাইমস/২৮ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’
রাজবাড়ীর এসপি মনজুর মোরশেদের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা
‘বেয়াদব’ ডেঙ্গু মশা এখন রাতেও কামড়ায়: অতিরিক্ত কমিশনার