কীভাবে এলো চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি? জানুন ইতিহাস

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। বাংলাদেশি চলচ্চিত্র শিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএফডিসি) কেন্দ্রিক একটি সংগঠন। চলচ্চিত্র শিল্পীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজ সমাধা, বিভিন্ন সহায়তা প্রদান এবং নানা দাবি পূরণে ভূমিকা রাখে এই সংগঠন। অভিনেতা ও সমাজসেবক ইলিয়াস কাঞ্চন সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি। সদ্যই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান।
গত ২৮ জানুয়ারি নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ১৭তম নির্বাচন। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটি প্যানেল। একটি ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল, অন্যটি মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল। এবার প্রথম প্যানেল থেকে সভাপতিসহ ১০ জন এবং দ্বিতীয় প্যানেল থেকে সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১১ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তাদের সমন্বয়ে গঠিত হবে নতুন কমিটি।
এই জয়-পরাজয় ও নানা ঘটনা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা এফডিসিপাড়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে আলোচনা সে সব নিয়ে নয়। আলোচনার বিষয়বস্তু হলো, যে শিল্পী সমিতি ও এর নির্বাচন নিয়ে এত তর্ক-বিতর্ক-সমালোচনা, সেটি গঠিত হলো কীভাবে? কারা ছিলেন এর নেপথ্যে? সেই ইতিহাসই তুলে ধরা হলো ঢাকাটাইমস-এর পাঠকদের জন্য।
উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ভারতীয় উপমহাদেশে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩২ সালে। সে সময় ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘ভারত চলচ্চিত্র সমিতি’। এর ছয় বছর পর ১৯৩৮ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় চিত্র ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘পশ্চিম বাংলা চলচ্চিত্র সমিতি’। তার পরের বছর অর্থাৎ, ১৯৩৯ সালে কলকাতায় ‘নিখিল বঙ্গ চলচ্চিত্র সংঘ’ নামে আরও একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর কেটে যায় ১৩ বছর। তখনও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব ছিল না। দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় ১৯৫২ সালে ‘পূর্ববঙ্গ চলচ্চিত্র সমিতি’ নামে আরও একটি সংগঠন গঠিত হয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সেটিই হয়ে যায় ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’। ১৯৮৪ সালে এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। যেটির অফিস এখন কারওয়ান বাজারে অবস্থিত এফডিসিতে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রথম সভাপতি ছিলেন প্রয়াত কিংবদন্তি নায়ক রাজ রাজ্জাক। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ। তবে সে কমিটির মেয়াদ ছিল মাত্র তিন মাস। ১৯৮৪ সালের আগস্টে সমিতির নতুন সভাপতি হন অভিনেতা খলিল উল্লাহ খান। তিনি পর পর দুই মেয়াদে ১৯৮৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন। দুই বারই তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আহমেদ শরীফ।
তখন থেকে নিয়ে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন আহমেদ শরীফ, আলমগীর, মাহমুদ কলি, মিজু আহমেদ, শাকিব খান ও মিশা সওদাগরের মতো অভিনেতারা। বর্তমান সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এ পর্যন্ত সমিতির দায়িত্ব সামলেছেন আহমেদ শরীফ, ইলিয়াস কাঞ্চন, মাহমুদ কলি, মাহবুব খান গুই, মিজু আহমেদ, ডিপজল, মান্না, রুবেল, মিশা সওদাগর, অমিত হাসান এবং সবশেষ জায়েদ খান।
এর মধ্যে জায়েদ খান গত দুই মেয়াদে শিল্পী সমিতিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এবারও তিনি চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারকে হারিয়ে হ্যাট্রিক জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে, প্রথমবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এর আগে ১৯৮৯ সালে তিনি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। কাঞ্চন-জায়েদ কমিটি খুব শিগগিরই শপথ নিয়ে সমিতির কার্যক্রম শুরু করবেন।
ঢাকাটাইমস/০১ফেব্রুয়ারি/এএইচ
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













